সাত হাজার ৩৯০ কোটি টাকা খুঁজে পাচ্ছে না বেসিক ব্যাংক

১৩ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে সাত হাজার ৩৯০ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের খুঁজে পাচ্ছে না বেসিক ব্যাংক। 

বেসিক ব্যাংকের জুনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, অর্থাৎ, মোট ঋণের ৫৩ শতাংশই খেলাপি। এর মধ্যে শীর্ষ ১০০ খেলাপির কাছে রয়েছে পাঁচ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা। আর শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে দুই হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে গুলশান, দিলকুশা, শান্তিনগর, আগ্রাবাদ ও প্রধান শাখায় রয়েছে ছয় হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। মোট খেলাপি ঋণের যা প্রায় ৮৬ শতাংশ।

এসব ঋণ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ  বলেন, খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষ কোনো ত্রুটি করছে না। সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির ৩৫৭ গ্রাহকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এতেও আশানুরূপ ফল আসেনি। পুনঃতফসিল করা ঋণ আবার খেলাপি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুদকের মামলার পর থেকে অধিকাংশই পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ব্যাংকের শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকে আছে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। জালিয়াতি করে নেওয়া এসব ঋণ পরিশোধ না করে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানপ্রধান এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের এ ঋণ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব ঋণের অনুমোদন দিয়েছিল আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ব্যাংকটির বিভিম্ন শাখার মাধ্যমে এসব ঋণ দেওয়া হয়।