রাজ মন্দিরের সামনে পোড়ানো হলো ‘পদ্মাবতী’-কে!

সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘পদ্মাবতী’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। সম্প্রতি ‘পদ্মাবতী’র পোস্টার প্রকাশিত হওয়ার পর ছবিটি ঘিরে আবার নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাজস্থানের জয়পুরের রাজ মন্দিরের সামনে পোড়ানো হয় এই ছবির পোস্টার।

‘পদ্মাবতী’ ছবির শুটিং শুরুর পর থেকেই রাজপুতদের কাছে এটি বিতর্কিত হয়ে আসছে। মাঝে কিছুদিন চুপচাপ ছিল উগ্রবাদীরা। এই ছবিটি শুরু থেকেই ভালোভাবে নিতে পারছেন না রাজপুত করনি সেনা সদস্যরা। প্রথমে গুজব রটে, এই সিনেমায় নাকি দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সঙ্গে রানি পদ্মাবতীর একটি স্বপ্নের দৃশ্য আছে। সেই দৃশ্যে দুজনকে শোয়ার ঘরে দেখা গেছে। এ খবর ছড়ানো মাত্রই উগ্রবাদীরা হামলা করে ‘পদ্মাবতী’র সেটে। এরপর কিছুদিনের জন্য ছবির শুটিং স্থগিত ঘোষণা করা হয়। জয়পুরে তাঁদের শুটিং করতে না দেওয়া হলে কোলাপুরে আবার শুটিং শুরু হয়। সেখানেও ঘটে বিপত্তি।

এ বছর জানুয়ারি মাসে রাজস্থানের আমের ও জাইগারহ দুর্গে ‘পদ্মাবতী’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সেখানে করনি সেনা সংগঠনের কর্মীরা হামলা করেন। এমনকি সঞ্জয় লীলাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এর পরের মাসেও রাজস্থানে ‘পদ্মাবতী’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে ছবির পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি করনি সেনাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। সে সময় বানসালি কথা দেন, রাজস্থানে তিনি আর শুটিং করবেন না। ‘পদ্মাবতী’র বাকি অংশের শুটিং করতে তাই এই নির্মাতা মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নগর কোলাপুরে ছবির সেট নির্মাণ করেছিলেন। মার্চ মাসে এক গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ৫০ হাজার বর্গফুটজুড়ে তৈরি সেই সেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আঘাত না পেলেও সিনেমার জন্য রাখা একটি ঘোড়া আহত হয় বলে জানিয়েছিলেন একজন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

আগুনে পুড়ে অনেক ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন জুনিয়র আর্টিস্টের পোশাক পুড়ে ছাই হয়ে যায় ওই সময়। তা ছাড়া পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর দিন কয়েক আগে রাজপুতের উগ্রবাদী দল করনি সেনার কিছু কর্মী রাজস্থানের চিতরগড় দুর্গে পদ্মিনী প্রাসাদের আয়না ভাঙচুর করেছে। কথিত আছে, এই আয়নার রানি পদ্মাবতীর রূপ দেখেই পাগল হয়েছিলেন আলাউদ্দিন খিলজি।

 

কিন্তু এবার ছবিটির পোষ্টার প্রকাশ পাওয়ার পর আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। করনি সেনার জয়পুর জেলার বিভাগীয় সভাপতি নারায়ণ সিং দিবরালা বলেন জানান বানসালি আগেই তাঁদের কথা দিয়েছিলেন যে ছবি মুক্তির আগে তাঁদের সেটি দেখাতে হবে। এই ছবিতে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়নি বা রাজপুতদের অনুভূতিকে আঘাত করা হয়নি—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভাবেই ছবিটি মুক্তি দিতে দেবেন না তাঁরা। চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার কথা ১ ডিসেম্বর।

তিনি বলেন, ‘ছবি মুক্তির আগেই এটি আমাদের দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। কিন্তু নির্মাতা তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। এমনকি আমাদের না দেখিয়ে ছবির পোস্টারও প্রকাশ করে ফেলেছেন। তিনি যেহেতু কথা রাখেননি, তাই ছবি মুক্তির আগে এটি আমাদের দেখানো না হলে রাজস্থানের সিনেমা হলে এটি মুক্তি দিতে পারবেন না।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ‘পদ্মাবতী’ ছবির পোস্টার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই প্রশংসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন দীপিকা পাড়ুকোন। এখানে দীপিকার রাজকীয় রূপে মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে বলিউডের তারকারাও। করণ জোহর, আলিয়া ভাট পোস্টার দেখার পর থেকে সিনেমাটি দেখার জন্যও উদ্গ্রীব হয়ে আছেন। এমনকি দীপিকার প্রথম হলিউড ছবি ‘ট্রিপল এক্স: রিটার্ন অব জেন্ডার কেইজ’-এর পরিচালক ডিজে কারুজো টুইটারে দীপিকার ‘পদ্মাবতী’ লুকের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, এখানে দীপিকার দৃষ্টি নেত্রীর মতোন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মঞ্চনাটক ‘পদ্মাবতী’র নির্দেশনা দিয়েছিলেন সঞ্জয় লীলা বানসালি।