নেইমারের কারণে আট ফুটবলার ছাড়তে হবে পিএসজিকে!

২২২ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড গড়ে বার্সা থেকে নেইমারকে উড়িয়ে নেয় ফরাসি ক্লাব পিএসজি। নেইমারকে কেনার আগে থেকেই আলোচনায় ছিল, কী বলে উয়েফাকে বুঝাবে ক্লাবটি। কারণ নেইমারের দলবদলে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নীতির লঙ্ঘন হতে পারে।

কারো কথার তোয়াক্কা করেননি পিএসজি মালিক নাসের আল খেলাইফি। কেবল নেইমারকেই নয়, মোনাকো থেকে এমবাপ্পেকে কিনে নিলেন ১৮০ মিলিয়ন ইউরোতে। নেইমারের ২২২ মিলিয়ন ইউরোর দলবদলের পর যা হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। উয়েফার চোখ ফাঁকি দিতে আগামী মৌসুমে এমবাপ্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করার পরিকল্পনা আঁটে পিএসজি। তবুও বাঁচতে পারেনি তারা।

ইতোমধ্যে উয়েফা সাফ জানিয়েছে, ‘ফেয়ার প্লে’ নীতির বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করে থাকলে ২০১৮/১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশ নিতে পারবে না পিএসজি। শিগগিরই উয়েফা এটা যাচাই-বাছাইয়ে নামবে।

স্প্যানিশ দৈনিক এল পেইস জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ এবং জুভেন্টাসের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পিএসজিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল উয়েফা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উয়েফার কাছ থেকে এমন হুঁশিয়ারি পাওয়ার পর আটজন খেলোয়াড় ছেড়ে দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ফরাসিরা।

যে তালিকায় আছেন-অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, হাভিয়ের পাস্তোরে, ব্লাইসে মাতুইদি, লুকাস মৌরা, জুলিয়ান ড্রাক্সলার, হাতেম বিন আরাফা, সার্জি আওরিয়ের এবং থিয়াগো সিলভা।

ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার জ্যান-ক্লদ ব্লাঙ্ক বলছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই আট ফুটবলারকে ছাড়তে চায় তারা। যদিও কেবল দুইজন ছাড়া বাকিদের যাওয়ার রাস্তা বেশ কঠিন বলে মনে হচ্ছে। ২৫ মিলিয়ন ইউরোতে সার্জি আওরিয়েরকে পেতে আগ্রহী টটেনহ্যাম হটস্পার আর ব্লাইসে মাতুইদির জন্য ২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে প্রস্তুত জুভেন্টাস।

এদিকে ফরাসি বেশ কয়েকটা সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এক নেইমারের জন্য উয়েফার গ্যাঁড়াকলে পড়ল প্যারিসে সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।

উল্লেখ্য, ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে উয়েফা ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) নীতি রেখেছে। যাতে একটি ক্লাব কখনো সর্বশেষ তিন মৌসুমে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতির মধ্যে থাকতে পারবে না। নেইমারের বদলিতে কেবল বার্সেলোনাকেই দিতে হবে ২২২ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে আছে বোনাসের হিসাব। পিএসজি কয়েক মৌসুম ধরে কাতারি পেট্রো ডলারের টাকাই ঢালছে। ক্লাবটি এখনো লাভের মুখে নেই।