কোচিং সেন্টারে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ, শিক্ষক বরখাস্ত

একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত লালমনিরহাট হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অনার্স শাখার ইংরাজি বিভাগের সেই শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অভিযোগে প্রকাশ, হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অনার্স শাখার ইংরাজি বিভাগের শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমন কলেজ রোডের প্রজাপতি স্ট‍ুডিও সংলগ্ন একটি ব্যক্তিগত কক্ষে প্রাইভেট পড়াতেন। প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে সুন্দরী ছাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে বশ করে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। যার অর্ধশত ভিডিও রয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হচ্ছে। গত শনিবার এক ছাত্রীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের যৌনাচারের আপত্তিকর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ভাবমূর্তি খুণ্ন হচ্ছে।

তাই বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনকে বরখাস্ত করে আইনের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবরে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান মামুন। উপজেলা ছাত্রদলও একই দাবিতে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কেশব চন্দ্রকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে ওই অভিযোগ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে সোমবার রাতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের একটি জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করে হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান বাংলানিউজকে জানান, তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে আংশিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আপাতত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।