উচ্চাভিলাষী বিদেশি সহায়তা অর্জন অসম্ভব!

বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে যে পরিমাণ বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়, তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যের অর্ধেক। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭২০ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে। এমন হিসাব করেই বাজেট দেওয়া হয়েছে।

বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩৯ কোটি ডলারের বিদেশি সহায়তা এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ কোটি ডলার কম। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ৩৫৬ কোটি ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। কোনো একক অর্থবছরে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ অর্থ ছাড়। এই উচ্চাভিলাষী বিদেশি সহায়তা পাওয়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে খারাপ খবর হলো বিদায়ী অর্থবছরে আগেরবারের চেয়ে বিদেশি সহায়তা ছাড় কমে গেছে। তাই বিপুল বিদেশি সহায়তার লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিদায়ী অর্থবছরের সাময়িক হিসাব চূড়ান্ত করেছে। গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে সাড়ে ছয় শ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। বছর শেষে প্রতিশ্রুতির অর্ধেক অর্থ পাওয়া গেছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) দাতারা ঋণ হিসেবে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার এবং অনুদান হিসেবে ৩৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার দিয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ছাড় করা অর্থের মধ্যে ঋণ সহায়তা ছিল ৩০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আর অনুদান ছিল ৫৩ কোটি ডলার।

অন্যদিকে বিদেশি সহায়তার দায় পরিশোধও বেড়েছে। ইআরডির তথ্যমতে, বিদায়ী অর্থবছরে দাতাদের দায় (আসল ও সুদ) পরিশোধ করতে হয়েছে ১১৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল হিসেবে ৯১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আর ২৩ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে সুদ বাবদ।