‘সরকার আমাদের ধোঁকা দিয়ে পুনর্বাসন করে দেয়নি’

কি লাভ হলো এত দিন আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে? গত ৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রসাশন থেকে ৩০ কেজি চাল আর এক হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলো। পুনর্বাসন না করে সরকার আমাদের ধোঁকা দিলো।’ তিন মাস ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পর নিজের ভাঙা ঘরে ফিরে এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন রাঙামাটির ভেদভেদী শিমুলতলী এলাকার আনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, ‘চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে গত তিন মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম। সেখানে আমাদের সবাইকে বলা হলো পুনর্বাসন করা হবে। পরে পুনর্বাসন না করে ৩০ কেজি চাল আর এক হাজার টাকা দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে বললো জেলা প্রশাসন। ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে হলে ৪/৫ হাজার টাকা লাগে। সেই সামর্থ্য নাই। গত ২০ সেপ্টেম্বর ইউএনডিপি পাঁচ হাজার টাকা দিছে। এই দিয়ে কোনোমতে ভাঙা ঘরে আছি। বৃষ্টি হলে ভয় করে।’

প্রসঙ্গত,গত ১৩ জুন প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জন মারা যান। প্রায় ১২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউএনডিপি থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৫৪ পরিবারকে ১৫ হাজার ২০০ টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৬১৯ পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের দুই বান্ডেল টিন ও ছয় হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

ভেদভেদী শিমুলতলী এলাকার রেজিয়া বেগম ও নিলুফারা আক্তার জানান, তারা দুই বোন একইসঙ্গে পাশাপাশি দুটি ঘরে থাকতেন। পাশের বাড়িতে মাটি পড়ায় তাদের সাহায্যের জন্য ওই বাড়িতে যান। এসময় তাদের বাড়িটিও পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে যায়। এক কথায় ভাগ্যের জোরেই বেঁচে আছেন তারা।

নিলুফারা আক্তার বলেন, ‘আমাদের জায়গাটি রাজ্জাক নামে একজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। রাজ্জাক সাহেব জমিটি কবির সওদাগর নামে একজনের কাছ থেকে কিনেছিল বলে শুনেছি। পরে জায়গার মূল মালিক আমাদের উচ্ছেদ করার হুমকি দিলে স্থানীয় অনুরোধ চাকমার কাছ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় বন্দোবস্ত করি।’

তিনি আরও বলেন,‘সরকার দুই বান্ডিল টিন আর ছয় হাজার টাকা দিছে। ছয় হাজার টাকা দিয়ে কি ঘর বানানো যায়? লেবার কই, ঘরের খুঁটি কই? কি দিয়ে ঘর বানাবো? আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আসার পর প্রতিবেশীর ঘরে ছিলাম কয়েকদিন। এভাবে কয়দিন থাকা যায়? তাই ছোট্ট করে মাথা গোঁজার জন্য এই ঘরটি বানিয়ে গত কয়েকদিন হলো থাকি। ব্র্যাক অথবা আশা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আস্তে আস্তে ঘরটা তৈরি করবো ভাবছি। আবার ভয়ও করে একটু বেশি বৃষ্টি হলে কী হবে। সরকার যদি আমাদের অন্য কোনও নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন করতো আমাদের সুবিধা হতো।’