শ্রীমঙ্গল মুসলিমবাগ এলাকা থেকে ১১ বছরের রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুসলিমবাগ এলাকা থেকে ১১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে রোহিঙ্গা শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম। শিশুটি শহরতলীর মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার সামছুল হকের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলো।

রোহিঙ্গা শিশু জিহাদুলের পিতার নাম মো. জসিম উদ্দিন ও মাতার নাম মোছা শাহিনা আক্তার। সে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু উপজেলার ঢেঁকিবনিয়া ইউনিয়নের ফকিরবাজারের বাসিন্দা। শিশুটি জানায়, গত ৯ দিন আগে সে তার ৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে মিয়ানমার বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তার ভাই স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। পরে তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর আগে মিয়ানমারের সেনারা তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এসময় সেনাবাহিনীর সহযোগী মগ’রা তার বাবাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে এবং মাকে জবাই করে হত্যা করে।

 ওসি কেএম নজরুল জানান, কয়েকদিন আগে শ্রীমঙ্গলের ট্রেনে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তাকে সামছুল হকের বাসায় রেখে যান স্থানীয় শহীদ মিয়া নামের আরেক ট্রেনযাত্রী। পরে পুলিশ এ খবর পাওয়ার পর শিশুটিকে ফেরত পাঠাতে বললে তাকে থানা হেফাজতে তুলে দেন আশ্রয়দাতা সামছুল হক। শিশুটিকে দ্রুতই কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

শিশুটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যাপারে ওসি আরও জানান, শিশু জিহাদুল আনুমানিক আট-নয় দিন আগে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর চট্টগ্রামের এক লোক সিলেট যাওয়ার পরামর্শ দেয় তাকে। শিশুটির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোকটি তাকে হজরত শাহজালাল (রা:) মাজারে যেতে বলেছিল। তাহলে আর থাকা-খাওয়ার সমস্যা হবে না বলেও লোকটি জানিয়েছিল। এরপর তারা ১৮-২০ জন একসঙ্গে চট্রগ্রাম থেকে ট্রেনে উঠে সিলেট আসার পথে ফেনী রেলস্টেশনে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে অন্যরা। কিন্তু ট্রেনের আসনে বসে থাকায় ও শিশু হওয়ায় তাকে কেউ কিছু বলেনি। আখাউড়া আসার পর ডেমু ট্রেনে উঠে পড়ে সে। দুই দিন আগে শিশুটিকে ট্রেনে কাঁদতে দেখে শ্রীমঙ্গল শহরের বাসিন্দা শহীদ মিয়া নামের এক বৃদ্ধ ট্রেন যাত্রী। এরপর জিহাদুল ইসলামকে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নামিয়ে  মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার  সামছুল হকের বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জিহাদুল ইসলামের কাছ থেকে আরও জানা যায়, গত আট-নয় দিন আগে তিন বছর বয়সী ছোট ভাই জিয়ান ইসলামকে নিয়ে মিয়ানমার বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে সে। এসময় তার ভাই ভূমি মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। পরে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সে। এর আগে মিয়ানমার সেনারা তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এসময় সেনাবাহিনীর সহযোগী মগরা তার বাবাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে এবং মাকে গলা কেটে হত্যা করে বলেও দাবি করেছে শিশু জিহাদুল।