পর্ষদ সভা ছাড়াই চলছে গ্রামীণ ব্যাংক

আড়াই বছর ধরে আনুষ্ঠানিক পর্ষদ সভা ছাড়াই চলছে নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংকে সর্বশেষ পরিচালক নির্বাচন হয়েছিল ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি। তাঁদের মেয়াদ ছিল তিন বছর, যা ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

ব্যাংকটির ১২ সদস্যের পর্ষদের মধ্যে ঋণগ্রহীতা ৯ সদস্যের মেয়াদ আছে কি নেই সে বিষয়ে মামলা ঝুলছে উচ্চ আদালতে।পর্ষদে নিশ্চিতভাবে আছেন মোটে তিনজন সদস্য— সরকারের নিয়োগ দেওয়া চেয়ারম্যান আর দুই পরিচালক। উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালে এই তিন পরিচালকের সমন্বয়ে পর্ষদ সভা আহ্বান করা যাবে কি না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা ৯ পরিচালকের দায়ের করা রিট মামলা নিষ্পত্তি করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণগ্রহীতা ৯ পরিচালকের দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বোর্ড সভা হয়নি। সরকার মনোনীত চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হকের কোনো কিছু মনে হলে তিনি তা দুই পরিচালকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে সম্মতি পেলে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

 পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় ব্যাংকের অনেক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখে জানিয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক। গত ১৬ জুলাই অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে থাকে এবং সার্বিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।’

এখন পর্যন্ত পরিচালক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়া ৯ পরিচালক নিজেদের এখনো পরিচালক বলে দাবি করে ও নতুন করে পরিচালক নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেছেন।