আশুরায় প্রতিমা বিসর্জন নিষিদ্ধ করেছেন মমতা

মহররমের মাসে মুসলিমদের শোকের দিন আশুরায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দিতে নিষেধ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গা পূজার আয়োজক, মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে করা বুধবার এক বৈঠকে মমতা এ নির্দেশ দেন। তার এমন সিদ্ধান্তে বেশ চটেছেন বিরোধীরা। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার পূজার এক উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে নিজের এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন মমতা। গত বছরের মতো এবারও আশুরা এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন কাছাকাছি পড়েছে। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা এড়াতেই মমতার এই সিদ্ধান্ত। পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও পূজা আয়োজকদের বলেন, চারদিনের পূজা শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার তো কোনো দিনই বিসর্জনে আপত্তি নেই। কিন্তু রাস্তায় যদি মহরমের ভিড় হয়। তাহলে কি তার মধ্যে দিয়ে বিসর্জনের মিছিল যেতে পারে? নাকি তার জন্য পুলিশ লাঠি-গুলি চালিয়ে জায়গা করে দেবে?’

দুর্গা পূজার প্রতিমা বিসর্জন কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মামলাও গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। হাইকোর্টের রায় দেখে প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবলেও পরে সিদ্ধান্ত বদল করেছে রাজ্য।

১ অক্টোবর আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকেই শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল বের হওয়ার কথা। মহররমের অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১ অক্টোবর রাত পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন বন্ধ থাকবে। পরদিন থেকে ফের বিদায় জানানো যাবে দুর্গাকে।

ধর্মীয় অনুভূতিকে ‍উসকে দিয়ে কেউ কেউ রাজনীতি করতে চায় বলেও বৈঠকে সতর্ক করেন তৃণমূলপ্রধান মমতা।

“কিছু মানুষ আছে যারা হিন্দু-মুসলমান বিষয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে। প্রত্যেকটি ধর্মই আমাদের; যদি পূজা মন্ডপের পাশ দিয়ে (আশুরার) মিছিল যাওয়ার সময় সমস্যা বাধে, তাহলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো,”বলেন তিনি।

তবে নবান্নের কর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের রায়ে বিসর্জনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের হাতেই রয়েছে। একাদশীর দিন বিসর্জন দিতে চাইলে পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত দেবে প্রশাসন।

এ ছাড়া মহরমের দিনে বিসর্জন বন্ধ করে সরকার সংখ্যালঘু (রাজ্যে বসবাসরত মুসলমান) তোষণ করছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। তবে সে অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, শুধু বিসর্জন নয়, মহররমের আগে মহড়ার মিছিলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

 মমতার এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সংখ্যালঘুদের খুশি করতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও অনেকের মন্তব্য।

উল্লেখ্য, এ বছর বিজয়া দশমী হবে ৩০ সেপ্টেম্বর (শনিবার) এবং আশুরা তার পরদিন ১ অক্টোবর (রোববার)। বিজয়া দশমীর দিন থেকে পরের কয়েক দিন দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। মমতা বলছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা বিসর্জন হবে কিন্তু ১ অক্টোবর বিরত থাকতে হবে। এরপর আবার ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর বিসর্জন দেয়া হবে।