দেশ কে এগিয়ে নিতে পণ্য বহুমুখীকরণ প্রয়োজন

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত তৈরি পোশাক নির্ভর। দীর্ঘদিন ধরেই রপ্তানি বাণিজ্যে এ এক পণ্য নির্ভরতা বিদ্যমান রয়েছে। অন্যদিকে পোশাক খাতে রপ্তানি খারাপ হলে তার নেতিবাচক প্রভাবও পড়ে রপ্তানি খাতের উপর।

গত দেড় দশকের মধ্যে গেল অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত দেড় দশকে এত কম প্রবৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি হয়েছে। এসব বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেশ ভালো রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, আবারো গতি ফিরছে রপ্তানি বাণিজ্যে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একইসঙ্গে এ সময়ে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাও ছাড়িয়েছে। গত দুই মাসে মোট ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির সার্বিক এ পরিসংখ্যান ও পোশাক খাতের রপ্তানির পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, সরকার ও রপ্তানিকারক পণ্য বহুমুখীকরণের কথা বললেও তা মুখে মুখে থেকে গেছে। রপ্তানির জন্য নতুন বাজার তৈরির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আরো একটু বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায়, পোশাক খাতসহ হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি পণ্যের উপরই নির্ভরশীল দেশের রপ্তানি বাণিজ্য। বাংলাদেশ থেকে ৭০০টিরও বেশি পণ্য রপ্তানি হয়। সংখ্যার দিক থেকে এটি বিশাল। তবে তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে হিমায়িত খাদ্য এবং পাট ও পাটজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় কিছুটা বেশি থাকলেও অন্যান্য পণ্য থেকে রপ্তানি আয় খুবই কম। আর পণ্য রপ্তানির গন্তব্যও খুব অল্প। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মত দেশেই মোট রপ্তানির ৮০ ভাগ যায়।

রপ্তানি বাণিজ্যকে টেকসই করতে হলে একপণ্য নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি ভৌগোলিক বহুমুখীকরণও প্রয়োজন।