জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে তিনি এই বক্তব্য দেবেন। অতীতের ধারাবাহিকতায় বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বসভায় আবারও ভাষা-শহীদের রক্তে ভেজা বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হবে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের একমাত্র সরকার প্রধান, যিনি পরপর ৯বার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়েও কথা বলবেন তিনি।

প্রতিদিন দুইটি করে পর্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিবেদন তৈরির সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দেশ হিসেবে এল সালভেদর-এর প্রতিনিধি বক্তব্য দিচ্ছেন। দ্বিতীয় পর্বের ১৪তম পর্বে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় তুলে ধরবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।এদিন সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে তার এই সফরের ওপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস উইং জানিয়েছে, ভাষণে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা কামনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেবেন । সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো উপস্থাপন এবং এর আশু সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করবেন শেখ হাসিনা।

অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও একইদিন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এদিনই নিজের হোটেলে ভার্জিনিয়ার আইবিএম এর প্রেসিডেন্ট মেরি রোমেটি সাক্ষাত করবেন তিনি। পরে কসোবোর প্রেসিডেন্ট হাসগিম থাচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউএনএইচকিউ-এ পানি বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেওয়ারও কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল অভিযানের অবসান চায় বিশ্ববাসী। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।  ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে সড়কপথে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন তিনি। ভার্জিনিয়ায় এক সপ্তাহ অবস্থানের পর  ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।