হিসাবের বাইরে থাকা নারীশ্রমের স্বীকৃতির প্রয়োজনঃ প্রধানমন্ত্রী

নারীদেরকে সমাজ পরিবর্তনের ‘গুরুত্বপূর্ণ চালক’ অভিহিত করে হিসাবের বাইরে থাকা নারী শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর সংস্থাটির মহাসচিবের উচ্চ পর্যায়ের এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।

‘কাউকে পেছনে না রেখে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ শিরোনামে মঙ্গলবারের ওই গোলটেবিল আলোচনায় শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র ও তার সরকারের দেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‍“শিক্ষা, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সমান সুযোগে অংশ নেওয়ায় নারীকে আমাদের সমর্থন দেওয়া দরকার বলে আমরা বিশ্বাস করি।

“রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায়ের সব স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।” নারী ক্ষমতায়নে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজি অর্জনে সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এতে আমরা নারীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করায় অগ্রাধিকার দিয়েছি।

বাংলাদেশের নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে নিয়ে আসায় বিচার ও নির্বাহী প্রশাসন, বেসামরিক ও সামরিক খাত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের সব চাকরিতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের ৬০ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের সবেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জামানত ছাড়া ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সরবরাহ করছে। নারীদের বিভিন্ন কাজে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপরও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হিসাবের বাইরে থাকা নারী শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

নারী শ্রমিকদের জন্য আরও সুবিধা তৈরির পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা প্রয়োজন।”