রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশেকে সহায়তার আশ্বাস দিল ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশস্ত করে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার দেশ বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সোমবার এক পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় আমেরিকা তা দেখবে।’

বৈঠক শেষে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রসচিব এম শহীদুল হক। এ সময় তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট ৩০টি পুলিশ চৌকি ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের কথিত প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করার খবর দিয়েছে। আর নির্যাতনের মুখে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত গণহত্যা’ চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে রাখাইনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু, মিয়ানমার সরকার এসব নাকচ করে রাখাইনের মুসলিম বিতাড়নের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই প্রথমবার মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। শেখ হাসিনা উত্তরে বলেন, ‘অগ্রগতি ভালো।’ আবুধাবি থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে একই বিমানে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিমানেই তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থানের ব্যাপারে সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের পাশে আছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ভারত বাংলাদেশকে সাহায্য করবে। পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ২৩-২৪ অক্টোবর ভারত বাংলাদেশ যৌথ কমিশনের আলোচনায় যোগ দিতে ঢাকা আসবেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডিও রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট মোকাবিলা করতে বাংলাদেশকে সাহায্য করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। তিনিও বাংলাদেশ সফর করতে চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের সব সংস্থা বাংলাদেশকে সাহায্য করবে। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন কেবলমাত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করবে। শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘জাতিসংঘের সংস্কার: ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’ শিরোনামে উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন। সভায় জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা অংশ নেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বিশ্ব সংস্থার বৃহত্তর দক্ষতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আনতে একটি ঘোষণা গ্রহণের চেষ্টাকালে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে এ ঘোষণায় ১২৮টি দেশ সই করেছে। জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছান। তিনি ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন। একই দিন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।