দু’টির বেশি সন্তান হলে সরকারি সুবিধা বন্ধ

ভারতের বিজেপিশাসিত অসম রাজ্য বিধানসভায় বহুলালোচিত জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। ‘পপুলেশন অ্যান্ড ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট পলিসি অব অসম’ নামে ওই বিলে দু’টি সন্তানের বেশি সদস্যদের পরিবারকে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে। তারা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়াও পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা সমবায় নির্বাচনেও প্রার্থী হতে পারবেন না।

শুক্রবার এ সংক্রান্ত একটি বিল বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জনবিস্ফোরণের চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে তাদের শিক্ষা, বিবাহসহ অন্য অধিকার তাদের হাতেই সমর্পণ করতে হবে।

ওই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কলেজ নির্মাণ করবে বলে হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান।
তার মতে, নারীরা শিক্ষায় স্বাবলম্বী হলে জনবিস্ফোরণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি পঞ্চায়েতে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ১৪/১৫ বছরের মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়। সন্তান জন্মের পরই অপুষ্টিজনিত কারণে মায়েরা মারা যান। মাতৃত্বের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে দরিদ্র সংখ্যালঘু নারীরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন এবং জন্মের হার অত্যন্ত বেশি হওয়ার ফলে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি বলেন।

জনবিস্ফোরণের ফলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলো অশিক্ষা ও দারিদ্রের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে এবং এরফলে জনবিন্যাসগত কাঠামো পরিবর্তন হয়ে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান।