কর্মক্ষম মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ নজর দিচ্ছিঃ প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে সরকার বিশেষ নজর  দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার বৈশ্বিক শ্রম বাজার সম্পর্কিত উদ্যোগ ‘গ্লোবাল ডিল’র এক বৈঠকে একথা জানান।

বৈঠকের সঞ্চালক জেনা বাদাউয়ির এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “(বাংলাদেশের) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন জনশক্তির উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে। “দক্ষতা উন্নয়নই উৎপাদনশীলতার মূল। আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছি।”

কর্মক্ষম জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) গঠনসহ নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নেওয়া চলমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে এনএসডিএ। তৈরি পোশাক খাতের শ্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিতকরণে শ্রমিক-কর্মচারী ও শ্রমিক নেতা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ত্রিপক্ষীয় পর্যালোচনা পর্ষদ (টিসিসি) গঠনের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “শিল্প খাতের স্থায়িত্ব ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতে অংশীদারি সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ।”

সরকারের নেওয়া উন্নয়নবান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে তার সরকারের নয় বছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে বিশ্বায়ন থেকে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতে ২০১৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে ‘গ্লোবাল ডিল’।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে শিল্পোন্নত ২০ দেশের সহযোগিতামূলক জোট ওইসিডির সহযোগিতায় যৌথ এই কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লাফিয়ান। এই উদ্যোগে অন্যান্য দেশ, ব্যবসায়ী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়নকে যোগ দেওয়া আহ্বান রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৬টি দেশ, আইএলও ও অক্সফামসহ বিভিন্ন সংস্থা, এইচঅ্যান্ডএম ও স্ক্যানিয়াসহ নয়টি ব্যবসায়ী গ্রুপ এবং বেশকিছু ট্রেড ইউনিয়ন ‘গ্লোবাল ডিল’র সদস্য হয়েছে।

কার্যক্রম শুরুর এক বছর পর ফলোআপ বৈঠকের আলোচনায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী লাফিয়ান, উরুগুয়ের প্রধানমন্ত্রী তাবারেজ ভাসকুয়েজ, জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব আমিনা মোহাম্মেদ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা অংশ নেন।