‘তাঁদের কাছে কোনও খাবার, এমনকি পানিও নেই’

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আক্রমণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকেই খাবার, জল ও আশ্রয়ের অভাবে মৃত্যুর মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’। রবিবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে ভয়াবহ এ বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক করল ওই সংস্থা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পায়ার্স রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, অনেক মানুষ ক্ষুধার্ত, পরিশ্রান্ত অবস্থায় বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। তাঁদের কাছে কোনও খাবার, এমনকি পানিও নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, খাবার, আশ্রয়, পানি ও মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখনও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। যদি এই পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা পূরণ না হয়, তাহলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে অনেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। ’

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযানের মুখে পশ্চিম রাখাইন থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মায়ানমারে কয়েক দশক ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের স্রোত অব্যাহত আছে বাংলাদেশের দিকে। মায়ানমারে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মনে করা হয় রোহিঙ্গাদের।

নতুন পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গা কক্সবাজারের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে, রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে, কাদা মাটিতে কোনও রকমে দিন পার করছেন। শরণার্থী শিবিরের আশ-পাশে ত্রাণবাহী ট্রাক দেখলেই ছুটছেন সেদিকে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের কাপড় বিতরণের সময় শুক্রবার দুই শিশুসহ এক রোহিঙ্গা নারী পদদলিত হয়ে মারা গিয়েছেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) রবিবার থেকে তাঁবু তৈরির কাজ শুরু করেছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁবু নির্মাণ কাজ শেষ হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পরিবহন করে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করবে সেনাবাহিনী।