আটক হওয়া মাহাবুব রোহিঙ্গা নন

তিনজন পুলিশ সদস্যের পাহারায় রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে নেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। গণমাধ্যমে আসা ছবি দেখে পরিবার ছুটে যায়। ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয় থানায়। পুলিশও তড়িঘড়ি মাঝপথ থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনে।

পুলিশ বলছে, যুবকের আসল নাম মাহবুব। বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকায়। বাবার নাম মোক্তার হোসেন। পরিবার জানিয়েছে, যুবকটি মানসিকভাবে অসুস্থ।

গত শনিবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকা থেকে সন্দেহজনক ঘোরাফেরার কারণে মাহবুবকে (২৬) আটক করে পুলিশ। নিজেকে রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে মাহবুব বলেছিলেন, তাঁর নাম আবদুল্লাহ। বাবার নাম সোলেমান। হাতে-পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়েছিলেন। ভাঙা ভাঙা হিন্দি ও বাংলা বলছিলেন। জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারে তাঁর ছোট বোন ও মাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি পালিয়ে ট্রেনে করে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে শরণার্থীশিবিরের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন পারভেজের ভাষ্য, ‘ওই যুবক সূক্ষ্ম অভিনেতা। আমাদের পুলিশসহ এতগুলো মানুষকে তিনি রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে ফাঁকি দিয়েছেন।’

ওসি আরও বলেন, মাহবুবের বাবা মোক্তার জানিয়েছেন, প্রাচীর থেকে পড়ে তাঁর বাঁ পা ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন মাহবুব ভারতীয় চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে মাহবুব বরিশালে গিয়ে নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় মামলা হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাঁর বাবা খবর পেয়ে জামিন করিয়ে নিয়ে আসেন। পরিবার জানিয়েছে, মাহবুব মানসিকভাবে অসুস্থ।