রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বণ্টনে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর নির্যাতন থেকে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা, পানীয় জল, সৌচাগার, সেনিটেশন এসবের তীব্র সংকটে রয়েছে। 

পালিয়ে আসা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা রাত কাটাচ্ছেন আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে খোলা আকাশের নিচে। একদিকে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব অন্যদিকে অনবরত বৃষ্টিতে ভিজে রোহিঙ্গারা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু শরণার্থীরা। তাদের সুস্থ রাখা ও অসুস্থদের চিকিৎসা সেবা দেয়া এখন জরুরি প্রয়োজন। এ অবস্থার বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুদের আশ্রয়, খাদ্য, পানীয় জল, সেনিটেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা ।

এ প্রসংগে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সবার জন্য জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য , আশ্রয় আর চিকিৎসা সেবা দেয়া না হলে আনেকেই মারা যাবে। ইতোমধ্যে অনেক শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মারা গেছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে দেশি বিদেশি ত্রাণ সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় ত্রাণ ও সহায়তা কমিটির প্রধান মির্জা আব্বাস বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে বিরোধী দলকে ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে সরকারের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম লোক দেখানো। তারা রোহিঙ্গাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা লুটপাট ও ত্রাণ আত্মসাৎ করছে। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে আসুন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করি।’

তাছাড়া, আজ রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কক্সবাজার এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবী জানিয়েছেন।