রোহিঙ্গাদের গরু নিয়ে মাঝিরা এখন ব্যবসায়ী

জীবনের তাগিদে দেশ ছাড়ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। সব হারিয়ে শুধুই বেঁচে থাকার আশা নিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পাড়ি জমাচ্ছে এপারে। রোহিঙ্গা পারাপারে বিভিন্ন দালালচক্র সম্পৃক্ত হয়ে নিঃস্ব করে দিচ্ছে এসব অসহায় মানুষদের। বিশেষ করে কক্সবাজার সীমানায় নাফ নদী পারাপারে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরছে রোহিঙ্গারা। নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণের গহনাও মাঝিদের হাতে তুলে দিয়ে নদী পার হচ্ছেন আরাকানের মুসলমানরা।

মাঝিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নিজেদের পালিত গরু-ছাগলও। আর পানির দরে এসব গরু-ছাগলের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের পার করে দিচ্ছেন দালাল-মাঝিরা। রোহিঙ্গাদের গরু নিয়ে মাঝিরাই এখন ব্যবসায়ী। আবার গরুর দালাল বা ব্যবসায়ীরাও মিয়ানমারের ওপারে গিয়ে গরু কিনছেন।

সীমানার ওপারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়েই একটি পূর্ণ বয়স্ক গরু কিনতে পারছেন দালালরা। আর একটি ছাগল কিনছেন তিন থেকে পাঁচশ টাকায়। এসব গরু-ছাগল নৌকাযোগে এপারে আনলেই কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে। টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের সব এলাকায়ই এখন গরু-ছাগলের হাট। সস্তায় মিলছে বলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ীরাও এখন এই দ্বীপে কারবার করছেন। মানুষের মতো প্রতিদিন হাজার হাজার গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু উপজেলা থেকে চারটি গরু নিয়ে সীমানায় এসেছিলেন আনছার আলী নামের এক রোহিঙ্গা। মাঝিরা চারটি গরুর বিনিময়ে নদী পার করে দেয়ার শর্ত দেয়। উপায় না দেখে তাদের শর্তে রাজি হন আনছার আলী। তিনি বলেন, গরুগুলো এপারে আনলে হয়তো অনেক টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু নিজেদের জীবন তো আগে। উপায় ছিল না বলেই চার গরুর বিনিময়ে পরিবারের ছয়জন পার হতে পারলাম।

সীমানার ওপারেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর কাছে ছয়টি গরু মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন রোহিঙ্গা নেছার হোসেন। তিনি বলেন, কিছুই করার নেই। রাষ্ট্রই নেই আমাদের। এপারে আনলে বহু টাকা পেতাম। কিন্তু আনার উপায় তো নেই। যে গরু দুই হাজার টাকায় বিক্রি করলাম, এপারে এসে দেখি তা ৩০ হাজার টাকা। সবই কপাল।

চট্টগ্রাম থেকে গরু কিনতে শাহপরী দ্বীপে এসেছেন মকবুল হোসেন। গত চারদিনে ৮৬টি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, আমরা বেশি দামেই কিনছি। গরুপ্রতি ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকাও দিচ্ছি। লাভ করছেন মাঝিরা। প্রশাসনের খরচ তো আছেই। তবে রোহিঙ্গারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেন এই ব্যবসায়ী।