বিদেশ সফরে সৌদিকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তামিম

সৌদিসহ চারটি আরব দেশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির পর এই প্রথম কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি বিদেশ সফর করেছেন। কাতারের আমির গত বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এরপর গত শুক্রবার বার্লিনে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সর্বশেষ তিনি প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে দেখা করেন।

সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর একযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো তীব্রতর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম কাতারের আমির তুরস্ক, জার্মানি ও ফ্রান্স সফরে গেলেন। এ অবস্থায় কাতারের আমিরের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য কী সেটাই এখন সবার প্রশ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারের আমিরের বিদেশ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে সৌদি আরবের সহযোগিতায় আব্দুল্লাহ বিন আলী আলে সানিকে বর্তমান আমিরের স্থলাভিষিক্ত করার যে চেষ্টা বিরোধী মহল করছে সেটাকে ব্যর্থ করে দেয়া। গত সপ্তাহের শেষের দিকে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট কাতার সরকারের বিরোধীরা লন্ডনে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তারা বর্তমান আমির শেখ তামিমকে সরিয়ে তার জায়গায় আব্দুল্লাহ বিন আলীকে বসিয়ে নতুন সরকার গঠনের ব্যাপারে একমত হন।

এ অবস্থায় কাতারের আমির শেখ তামিম তুরস্ক, জার্মানি ও ফ্রান্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে একদিকে নিজের বৈধতার প্রমাণ দিয়েছেন অন্যদিকে তিনি এটাও প্রমাণ করেছেন তার প্রতি বাইরের দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে। তবে কাতারের আমির তার এ সফরের মাধ্যমে সরকার বিরোধী মহলকে ও একই সঙ্গে সৌদি আরবকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কাতার যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া কিংবা সিরিয়া নয় যে বর্তমান সরকারকে সহজেই উৎখাত করা যাবে।

কাতারের আমিরের বিদেশ সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে এটা প্রমাণ করা যে, তার দেশ সৌদি নেতৃত্বে চারটি আরব দেশের নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে এবং তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য বিরোধীদের প্রচেষ্টা নিয়েও কোনো দুশ্চিন্তা নেই। অর্থাৎ বলা যায় শেখ তামিম বিদেশ সফরের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের ভেতরে তার অবস্থান যথেষ্ট মজবুত এবং তার শক্তি ও প্রভাব অটুট রয়েছে।

অন্যদিকে, মুহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর অন্য যুবরাজদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় এখন পর্যন্ত বিদেশ সফরে যেতে পারেননি তিনি। কারণ মুহাম্মদ বিন সালমানের পরবর্তী রাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাতারের আমিরের বিদেশ সফরের তৃতীয় কারণ হচ্ছে বাইরের দেশগুলো বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধরন সবার সামনে তুলে ধরা। শেখ তামিম প্রথমে আঙ্কারা সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে দেখা করেন।

এছাড়া, দোহায় তুরস্কের এক সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে সৃষ্ট উত্তেজনায় তুরস্ক কাতারকে সমর্থন জানিয়েছে এবং দেশটিকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষার জন্য আঙ্কারা দোহায় সেনা পাঠিয়েছে। কাতারের আমির তুরস্ক সফরে গিয়ে রিয়াদ ও তার মিত্রদের এ বার্তাই পৌঁছে দিয়েছেন যে, সৌদি আরব যদি হামলা চালানোর চিন্তা করে থাকে তাহলে তুরস্কও ওই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

সর্বোপরি শেখ তামিম তার এ সফরের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ আরব দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তার কোনো দুশ্চিন্তা নেই এবং দোহার প্রতি আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে।