‘নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে মিয়ানমার’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ভূমিকা অব্যাহত থাকলে মিয়ানমার সরকার তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মিয়ানমারে গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুন্ঠন ও ভয়াবহ পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কান্নায় পৃথিবীর আকাশ-বাতাস আজ ভারী হয়ে ওঠেছে। গণহত্যা করা হচ্ছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুসহ নারী, যুবক ও বৃদ্ধাদের। এসব ঘটনায় বিশ্ব বিবেক স্তব্ধ। বিশ্ব মানবতার স্বার্থে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার যে ভূমিকা নিয়েছে এটা অব্যাহত থাকলে মিয়ানমার সরকার নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে গতকাল প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়েছেন। তার কাছে আমাদের দাবি সেই অধিবেশনে নির্যাতিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সু-স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হোক। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আমাদের দাবি থাকবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর যেন চাপ প্রয়োগ করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাগরিক। তারা সে দেশের সরকারকে ভোট দিয়েছে। তাই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে এখন পর্যন্ত চার লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, শিশু, বৃদ্ধ, যুবকদের এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করেছে। তারা গ্রামের বহু বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।