চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে হিমসিম খাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের বাজার নিয়ন্ত্রন করতে হিমসিম খাচ্ছে সরকার। গত এক সপ্তাহে চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা । খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনে কেজিপ্রতি চালের ধরনভেদে মূল্য প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। সরকারিভাবে ১০ টাকা কেজির চাল সরবরাহ বন্ধ। ওএমএস পদ্ধতির চালও এবার দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

এ অবস্থায় আজ রোববার থেকে চাল বিক্রি (ওএমএস) শুরু হয়েছে। সারা দেশে খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ডিলাররা ৫২০টি ট্রাকে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করবেন। প্রতি কেজি আটা বিক্রি হবে ১৭ টাকা দরে। তবে গত বছর এই চাল ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

ওএমএসে চালের দাম দ্বিগুণ করার কারণ জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছর আমরা যখন ওএমএস চালু করি, তখন বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ৩০ টাকা। তাই মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আমরা ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেছি। এখন বাজারে প্রতি কেজি চাল ৪৫ টাকা, তাই দাম বাড়ানো হয়েছে।

ওদিকে, খুচরা, পাইকারি ও মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা চালের বাজারের এ অস্থিরতার জন্য দফায় দফায় বন্যা ও ও অতিবৃষ্টিতে ফসলহানি এবং মিল মালিক ও বড় কৃষকদের গুদামে ধান-চাল মজুদ রাখাকে দায়ী করছেন। তবে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের গুদামে খাদ্য মজুদ কম থাকা এবং ভারত সহ রফতানিকারক দেশগুলোর চালের দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারণে এ অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।

কাওরানবাজার কিচেন মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চাল ব্যবসায়ী হাজী লোকমান হোসেন বলেছেন, সিলেটের হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা ও উত্তরাঞ্চলে দু দফা বন্যা, এবং ধানের জমিতে পাট, অন্য ফসল ও মাছের ঘের তৈরির কারণে ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে চালের দাম বাড়ছে।

এছাড়া, সরকার চালের শুল্ক কমিয়ে দিলেও ভারত, থাইল্যান্ডসহ অন্য দেশগুলো চালের দাম বাড়িয়েছে। ফলে বেশি দামেই আমদানি করতে হচ্ছে। ওদিকে গত সপ্তাহ থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা বলে ভারত চাল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফলে ব্যবসায়ী মহলেও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় আজ রোববার সচিবালয়ে অটোমিল মালিক অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে এক জরুরী বৈঠক বসেন বানিজ্যমন্ত্রী তেআফায়েল আহমেদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। বৈঠক শেষে বানিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চালের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে চালের গুদাম আছে সেখানে অভিযান চালানো হবে। অতিরিক্ত মজুদ রাখলে মিল মালিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে। এসময় অবৈধভাবে চাল মজুদের অভিযোগে বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

এর আগে, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চালের দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকে দায়ী করে বলেছেন, ‘চাল নিয়ে রাজনীতি চলছে, চাল নিয়ে সমস্ত দেশকে একটা বিভ্রাটের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাল নিয়ে চালবাজি হচ্ছে, চাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও বলেছেন, একদল অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চালের বাজার অস্থিতিশীল করছেন।