রাম রহিমের রায়কে ঘিরে হরিয়ানায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের ধর্ষণ মামলার রায় ঘিরে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কয়েকটি শহরে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার হরিয়ানার রোহতক শহরের বিশেষ কারাগারে বিশেষ আদালত বসিয়ে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত রাম রহিমের শাস্তির রায় ঘোষণা করা হবে, জানিয়েছে এনডিটিভি।

বিশেষ এই কারাগারটিতেই রাম রহিমকে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তার সাজার রায় ঘোষণাকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রোহতক শহর প্রায় অচল হয়ে গেছে। কোনো সহিংসতার ইঙ্গিত দেখলেই তারা গুলি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে রোহতক পুলিশ।

তিন দিন আগে শুক্রবার ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তার ডেরা সাচা সৌধা আশ্রমের ভক্তদের তাণ্ডবে ৩৮ জন নিহত হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘রক স্টার বাবা’ নামে পরিচিত রাম রহিমের নূন্যতম সাত বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

২০০২ সালে নিজের দুই নারী শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিং, তিনিই ডেরা প্রধানের শাস্তির মেয়াদ ঘোষণা করবেন। বিচারককে হেলিকপ্টারে করে রোহতকের বিশেষ কারাগারের আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। রোহতকের শহরতলীতে অবস্থিত এই কারাগারটিতে যাওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ করে দিয়ে সেখানে তিন হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

রাম রহিমের রায়কে ঘিরে হরিয়ানায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এক সংবাদ সম্মেলনে রোহতকের ডেপুটি কমিশনার অতুল কুমার বলেছেন, “যে সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাকে প্রথমে সতর্ক করা হবে, তারপরও নিবৃত্ত না হলে তাকে গুলির মুখোমুখি হতে হবে।” রোববার হরিয়ানার সিরসা শহরে ডেরার প্রধান আশ্রম থেকে রাম রহিমের প্রায় ৩০ হাজার অনুসারিকে সরিয়ে নিয়েছে দাঙ্গা পুলিশ ও সৈন্যরা। এক হাজার একরের এই আশ্রমটিতে প্রবেশের সবগুলো পথ বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নিয়েছে কয়েকশত সৈন্য ও দাঙ্গা পুলিশ।

রাম রহিমের শাস্তির রায় ঘোষণাকে ঘিরে সোমবার হরিয়ানার সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাবেরও কিছু স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ ও নৈদারও সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। হরিয়ান ও পাঞ্জাবে ডেরার ১৩০টিরও বেশি আশ্রমে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে আশ্রমগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে লাঠি, রড এবং পেট্রল বোমা তৈরির উপাদানও আছে।

সিরসার আশ্রমের কাছে একটি গাড়িতে দুটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবে বা সহিংসতা সৃষ্টি করবে, তারা যারাই হউক, ছাড় দেওয়া হবে না।”

ডেরার ভক্তদের তাণ্ডবের ঝুঁকিকে অগ্রাহ্য করার জন্য, সহিংসতা রোধ করতে ব্যর্থতার জন্য এবং রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার পর তাকে বিলাসবহুল হেলিকপ্টারে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য হরিয়ানার শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।