বন্যার পানি নিষ্কাশনে বন্ধ ব্রিজ-কালভার্ট দ্রুত খুলে দিনঃ প্রধানমন্ত্রী

বন্যার কারণে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ব্রিজ ও কালভার্ট বন্ধ আছে সেগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া দেশে খাদ্য মজুদের বিষয়ে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সচিব এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনভাবে খাদ্য আমদানি করবেন যেন ভারসাম্য থাকে। কৃষকের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। এছাড়া ছোটখাট অনেক নদীতে বাধ দেয়া হয়েছে। অনেকে কালভার্ট-ব্রিজের মুখে দেয়াল দিয়ে মাছ চাষ করছেন। অনেকে নিজের সুবিধার জন্য ব্রিজ ও কালভার্টের নিচে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। ফলে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রীদের এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকটি ব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে পানি যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনাকালে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে আমন ধানের বীজ মজুদ আছে। এছাড়া আমনের চারাও পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। বন্যার পানি নেমে গেলে কৃষকরা আবার ধান রোপন করতে পারবেন। খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মন্ত্রিপরিষদকে জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খাদ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ ২০ লাখ মেট্রিক টন।

সভা শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, এ সময়ের মধ্যে দেশের খাদ্য ঘাটতি মেটাতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সভার শুরুতে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চাল আমদানির বিষয়ে সম্প্রতি কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে। এ সময় তারা জানান, আগামী পাঁচ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য কম্বোডিয়ার সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশে খাদ্য ঘাটতি কত? তখন খাদ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে খাদ্য ঘাটতি ২০ লাখ মেট্রিক টন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাহলে এই ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্য শস্য যেন আমদানি না করা হয়। কারণ প্রয়োজনের বেশি আমদানি করলে দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

চুক্তি অনুযায়ী কবে নগাদ চাল আসবে- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’