সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় বাংলাদেশে কবি নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আজ (রোববার) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কবির সমাধিতে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবি পরিবারের সদস্যরা। এ সময় কবির নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় পার করছি, যখন জাতিগতভাবে একটি লড়াই চলছে। তিনি তাঁর কবিতা, নাটক, উপন্যাসের মাধ্যমে সব লড়াইয়ের অবসান চেয়েছেন।’

এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় কবি আমাদের আদর্শের প্রেরণা। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে প্রেরণা, তা তিনিই আমাদের দিয়েছেন। তাঁর শিল্প-সাহিত্য, গল্প-কবিতা সবকিছুতে মানুষের মুক্তি কামনা করেছেন।’

সকাল ৮টার দিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনাকে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশে আজ সাম্প্রদায়িক বীজ বৃদ্ধি পেয়েছে, শেকড় বেড়েছে। সেটাকে দেশের সর্বস্তরের জনগণ মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপড়ে ফেলতে হবে।’

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় বাংলাদেশে কবি নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

ঢাবির বিভিন্ন হল, নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাবি ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, কবি নজরুল সাহিত্য মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাতীয় কবি নজরুল ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত এ মনীষী ১৯৭৬ সালের এ দিনেই ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।