প্রথম দিনেই বাজিমাত, ২৪২ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাট করতে নামার পর তামিম আর সৌম্যর ব্যাটে ১০ রান। এরপরই যেন হঠাৎ ঝড় তুলেছিলেন প্যাট কামিন্স। সেই ১০ রানে বসিয়ে রেখেই বাংলাদেশের ৩ উইকেট তুলে নিলেন এই পেসার।

দিনের শুরুটা ছিল মুশফিকের টস জয়ের হাসি দিয়ে। শেষ হয়েছে নাটকীয়ভাবে পরপর তিন উইকেট লাভের মহা আনন্দ নিয়ে। তামিম- সাকিব ছাড়া বাকিদের বিবর্ণ ব্যাটিং। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২৬০ রানে অলআউট। কিন্তু এই সাধারণ স্কোর নিয়েও সাকিব-মিরাজদের স্পিন জাদুতে ঢাকা টেস্টে ভালো কিছুর আশা দেখছে স্বাগতিকরা। কারণ, প্রথম ইনিংসে ১৮ রান তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছে অজিরা। প্রথম দিন শেষে ২৪২ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার হাতে সাত উইকেট।

নতুন উইকেট। গত কয়েকদিনের আবহাওয়াও ভালো ছিল না। তাই টসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিতে মোটেও ভুল করেননি অধিনায়ক মুশফিক। বড় ইনিংস দাঁড় করিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলাই ছিল উদ্দেশ্য।

কিন্তু সৌম্য, ইমরুল আর সাব্বিরের কারণে উল্টো শুরুতেই মহাবিপদে স্বাগতিকরা। ইনিংস শুরু করতে নেমে ঠিক ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালান সৌম্য। ব্যক্তিগত ৮ রানে ফিরে যান খুবই বাজে শট খেলে। এদিন সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা ছিল ইমরুল কায়েসের। কারণ তিনি মুমিনুলের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন। মুমিনুলকে বাদ দিয়ে ইমরুলকে একাদশে নেওয়া অনেক বড় ঝুঁকি ও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল কোচের জন্য।

মুমিনুলের জায়গায় ব্যাট করতে নেমে ৬ বল মোকাবেলায় রানের খাতাই খুলতে পারেননি ইমরুল। এরপরই ‘ডাক’ মেরে ফিরে যান সাব্বির রহমান। ১০ রানে নেই ৩ উইকেট। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়। ২০০৪ সালের পর এমন বাজে শুরু হয়নি বাংলাদেশের। সর্বশেষ ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়েছিল টাইগাররা।

পরিস্থিতির কারণে এদিন অনেক বেশি চাপে ছিলেন সাকিব-তামিম। কারণ মাত্র ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল টাইগাররা। দুই ধরনের চাপ ছিল এ জুটির উপর। প্রথম চাপ, বিপর্যয় সামাল দিয়ে ইনিংসটা মেরামত করা। দ্বিতীয় চাপ, মাইলফলকের ম্যাচে ভালো করা। তবে একসঙ্গে দুটো চাপই ভালোভাবে নিতে পারেন দলের সেরা দুই সদস্য।

পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয় তা ভালো করেই জানা অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যানের। সাকিব মোটামুটি স্বাভাবিক ব্যাটিং করে গেলেও পরিস্থিতির কারণে উইকেট আগলে পড়েছিলেন তামিম। ওয়ানডেতে তামিম মারকুটে ব্যাটসম্যান হলেও টেস্ট মেজাজের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

তামিমের পরে ব্যাট করতে নেমে ৬৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সাকিব। আগে ব্যাট করতে নামলেও টেস্টে নিজের ২৩তম হাফ সেঞ্চুরিটা পূরণ করেন সাকিবের অনেক পরে, ১১৯ বলে। ৫০ রানের জুটি থেকে ১০০ এবং জুটি শেষ হয় ১৫৫-তে। ১০ থেকে দলের রান নিয়ে গেলেন ১৬৫-তে। তামিমের কাছে আরেকটা সেঞ্চুরি আশা করেছিল দল। কিন্তু ভালো খেলার মধ্যেই হঠাৎ ৭১ রানে আউট হয়ে যান তামিম। তামিম পারেননি, সাকিব কী পারবেন, নিজের ৫০তম ম্যাচে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটা তুলে নিতে? দলও তার দিকে তাকিয়ে ছিল। না, শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির দেখা পাননি সাকিবও। ১৩৩ বলে ৮৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

মনে হয়েছিল বড় ইনিংস খেলবেন মুশফিকুর রহিম। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলো অধিনায়ককে। অনেক দিন পর টেস্ট খেলতে নেমেছেন নাসির হোসেন। মনে হয়েছিল নাসিরের সঙ্গে মুশফিকের জুটিটা জমবে বেশ। কিন্তু ভালো খেলার জানান দিয়েও  ১৮ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যান টাইগার অধিনায়ক।

নাসিরের ব্যাটিং ধরন নিয়ে নানা অভিযোগ! এ বলে দুর্বল, ও বল ভালো খেলতে পারেন না ইত্যাদি। বিশেষ করে ৫ দিনের ম্যাচে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করলেও জাতীয় দলে বারবার উপেক্ষিত নাসির যে কারণে! বহুদিন পর সাদা পোশাকে ব্যাট করতে নেমেছেন। অনেক চাপ নাসিরের কাঁধে। সঙ্গে দায়িত্বও। মিরাজকে নিয়ে যে এগিয়ে যেতে হবে।

শেষ ব্যাটসম্যান বলতে এ জুটিই। যা করার তাদেরই করতে হবে। তাই দুজনই ছিলেন সাবধানী। ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। কিন্তু খানিকক্ষণ লড়াই করেও বেশি দূর যেতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। নাসির, মিরাজের অবস্থা হলো মুশফিকের মতোই। মানে ভালো খেলতে খেলতেই আউট হয়ে গেলেন তারা। ২৩ করলেন নাসির। আর ১৮ রান আসলো মিরাজের ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামলো ২৬০ রানে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স ৩টি, নাথান লায়ন ৩টি ও অ্যাশটন আগার ৩টি করে উইকেট নেন।

জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তিন উইকেটে ১৮ রান নিয়ে দিন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নারকে ৮ রানে ফেরান মিরাজ। ১ রান করে আউট হন উসমান খাজা। এরপর নাইট ওয়াচম্যান নাথান লায়নকে ০তে ফিরিয়ে নাটকীয়তার জন্ম দেন সাকিব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

প্রথমদিন শেষে ২৪২ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬০ (৭৮.৫ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৭১, সৌম্য সরকার ৮, ইমরুল কায়েস ০, সাব্বির রহমান ০, সাকিব আল হাসান ৮৪, মুশফিকুর রহিম ১৮, নাসির হোসেন ২৩, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮, তাইজুল ইসলাম ৪, শফিউল ইসলাম ১৩, মোস্তাফিজুর রহমান ০*; জস হ্যাজলেউড ০/৩৯, প্যাট কামিন্স ৩/৬৩, নাথান লায়ন ৩/৭৯, অ্যাশটন আগার ৩/৪৬, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১/১৫)।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৮/৩ (৯ ওভার)

(ডেভিড ওয়ার্নার ৮, ম্যাট রেনশ ৬*, উসমান খাজা ১, নাথান লায়ন ০, স্টিভেন স্মিথ ৩*; শফিউল ইসলাম ০/৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৭, সাকিব আল হাসান ১/৩)