‘আদালত নিয়ে সাবেক বিচারপতির বক্তব্য আদালতের অবমাননা’

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ নিয়ে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বক্তব্য সংবিধান লঙ্ঘন ও আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (রোববার) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, ‘তুমি শুধু প্রধান বিচারপতির পদ ছাড়বা না, এই দেশ ছাড়তে হবে। তুমি যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব স্বীকার করো না, তখন এ দেশে থাকার কোনো অধিকার তোমার নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত না এমন অনেক কথা আপনি অবজারভেশনে বলেছেন। প্রধান বিচারপতির কাজ রাজনীতি করা না। যে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করে, সেটা তার অযোগ্যতা। এসব করে তিনি অনেকভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার আর এই পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে অবশ্যই এই পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’ ২৫ দিনে ৪০০ পৃষ্ঠার রায় কোনোভাবেই লেখা সম্ভব নয় দাবি করে মানিক বলেন, ‘উনি মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে ৪০০ পৃষ্ঠার কথা লিখেছেন, যেটা ইমপসিবল (অসম্ভব), যেটা হতে পারে না। এটা তাঁর লেখা রায় মোটেও নয়।’

মানিকের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব আজ বলেন, প্রধান বিচারপতির বিষয়টি জনগণ বিবেচনা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সব বিচারপতির সর্বসম্মতিক্রমে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে, যে ভাষায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় না যে তাঁর বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা ছিল।

ফখরুল আরো বলেন, আদালত নিয়ে তিনি (মানিক) যা বলেছেন, তা স্পষ্টত আদালত অবমাননা। গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থি আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগও দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের পর্যবেক্ষণে আসা ‘অনভিপ্রেত’ বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে।