প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি অস্বাভাবিক পায়ের চিকিৎসা

প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি অস্বাভাবিক পায়ের চিকিৎসা করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন এক নারী। ৪০ বছর বয়সী সে নারী বাংলাদেশের সিলেটে অঞ্চলের বাসিন্দা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা: সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অস্বাভাবিক পা ফুলে যাওয়ার রোগটি ‘এলিফ্যান্টিয়াসিস’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ পা ফুলে অনেকটা হাতির পায়ের মতো হয়ে যায় বলে এ রোগের নামকরণ হয়েছে ‘এলিফ্যান্টিয়াসিস’। বাংলাদেশে অনেকের কাছেই এটি গোদ রোগ হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসকরা বলছেন সাধারণত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে গোদ রোগের প্রকোপ দেখা যায়।

ড: সেন বলেন এ ধরনের রোগীর চিকিৎসার জন্য কয়েক-দফা অস্ত্রোপচার করতে হবে। এ ধরনের রোগ বাংলাদেশে খুব বিরল নয় বলে উল্লেখ করেন ডা: সেন। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর ফুলে যাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক আকারে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে যাতে সে হাঁটতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় ২০ বছর বয়সে রেজিয়া বেগমের গোদ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় এটি ধীরে-ধীরে ফুলে বিশাল আকার ধারণ করে।

গত বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদার, যিনি ‘বৃক্ষ মানব’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর হাত-পায়ে শেকড়ের মতো গজিয়ে ওঠায় তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। দফায়-দফায় অস্ত্রোপচারের পর আবুল বাজানদারের হাত ও পা অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু তারপরেও কর্মক্ষম হতে পারেননি মি: বাজানদার। ডা: সেন বলেন, আবুল বাজানদারের চিকিৎসার ঘটনা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হবার পর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জটিল রোগীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছে।