ইরান বিরোধী অভিযোগ আমলে নেননি পুতিন

দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারো রাশিয়ার সোচিতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে ইসলামি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এ অভিযোগ আমলে নেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এ সাক্ষাতে সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননে ইরানের প্রভাবের পেছনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের হাত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি তার ভাষায় ওই দেশগুলোতে ইরানের নেতিবাচক ভূমিকার অভিযোগ তুলে রাশিয়াকে ইসরাইলের পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কেবল নেতানিয়াহুর কথা শুনে গেছেন কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু যেসব অভিযোগ করেছেন তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি বলেছেন, সিরিয়া সংকট সমাধানে ইরানের ভূমিকা ছিল পুরোপুরি গঠনমূলক এবং এ বিষয়ে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাক্ষাত আমেরিকার সঙ্গে ইসরাইলের গোপন আঁতাতের ফল। কারণ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে নানা ক্ষেত্রে তেহরানের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিভিন্ন সংকটের দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য গতকাল (বুধবার) ভিয়েনায় আইএইএ’র প্রধান ইউকিয়া আমানোর সঙ্গে জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির সাক্ষাৎ হয়েছে। ঠিক একই সময়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে যার উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়া।

দখলদার ইসরাইল ও আমেরিকা এমন সময় ইরানকে বিপদজ্জনক দেশ হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে যখন সিরিয়ার ব্যাপারে ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত সহযোগিতার ফলে সিরিয়ার রাজনৈতিক ও যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। আমেরিকা ও ইসরাইলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া, কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা বৈঠকে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ সিরিয়ায় উত্তেজনা কমে আসে। এই তিন দেশের সহযোগিতায় সিরিয়া সংকট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে এবং এ থেকে প্রায় সাত বছর ধরে চলা সিরিয়া সংকট অবসানে ইরানের ইতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে আমেরিকা ও ইসরাইল সিরিয়ায় ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে। আমেরিকার সবুজ সংকেতে ইসরাইল বহুবার সিরিয়ায় সরাসরি হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের বিমান বাহিনীর সাবেক কমান্ডার আমির ইশেল স্বীকার করেছেন, ইসরাইলের জঙ্গিবিমানগুলো গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ বার সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল নিজে সিরিয়ায় হামলা চালানোর পাশাপাশি যুদ্ধে আহত সন্ত্রাসীদেরও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে।

এ থেকেই সন্ত্রাসীদের প্রতি ইসরাইলের সমর্থনের বিষয়টি ফুটে ওঠে। আর সিরিয়ায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে ইসরাইলের জড়িত থাকার বিষয়ে রাশিয়া ভালোভাবেই অবহিত আছে।