ধর্ষক রাম রহিমের রায় ঘোষণা, দেশজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি

সাবধানতার পরিপ্রেক্ষিতে, পাঞ্জাব সরকার পুরো প্রদেশ জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে আগামীকাল ২৫শে আগস্ট স্কুল-কলেজসহ সকল সদর-দপ্তর বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দারো সাখা সাধু গেরমিট রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের পুরানো ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) তদন্ত মতে ধর্ষণের সকল ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং আগামীকাল মামলার প্রধান আসামি গেরমিট রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমার্নার সিংয়ের কার্যালয়ে দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র বহন করার জন্য একটি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যের ভেতরে নিরাপত্তার আধার জোরদার করার জন্য দায়িত্বে থাকা ভিভিআইপি নিরাপত্তা থেকে ১০০০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত ১০টি আধাসামরিক বাহিনীর অনুমোদন করেছে সরকার। মোট ৮৫টি সেন্ট্রাল কোম্পানি এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মোগা, বটতাঁ, সঞ্জুরে, বার্নালা, পটিয়া, লুধিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রাজ্যের হরিয়ানা সীমান্তের সংযোগ সড়কের পাশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্থির অবস্থার নিরীক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, ডিজিপি বিভিন্ন জেলায় পরিদর্শন করার আগে সংবেদনশীল মামলার রায়ের প্রস্তুতির পর্যালোচনা করেন। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার যে কোন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার নির্দেশ দেন এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

১৭ আগস্টের শুনানির জন্য, পঞ্চকুলার আদালতে সাধু গেরমিট রাম রহিম সিংকে হাজির করা হয়। পরে ঐদিন শুনানি না হওয়ায় ১৯শে আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ১৯শে আগস্ট পঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালতে সাধু গেরমিট রাম রহিম সিং হাজির হয়নি। পরে হাজির না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে শারীরিক অসুস্থাতার কথা উল্লেখ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং আজ ২৪ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করে। আজ শুনানিতে আসামি উপস্থিত হওয়ায় এবং সকল অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় আগামীকাল রায় ঘোষণা হবে বলে জানান আদালত।

১৯৯৯ সালে একজন মহিলা ভক্তকে ধর্ষণ করে বলে জানা যায়। পরে ২০০২ সালে ওই ধর্ষিত মহিলা সিবিআইয়ের কাছে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটি দায়ের করার পরপরই সিবিআই উক্ত মামলার তদন্ত শুরু করে। এছাড়া ২০০৬ সালে দুই নারী সাধু গেরমিট রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের অভিযোগ করেন সিবিআইয়ের কাছে। পরে উক্ত মামলার তদন্ত শেষে ১৭ আগস্ট পঞ্চকুলার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হলেও তা হয়নি।

২৫শে অগাস্ট রায় ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত।