প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের আশা নিয়ে দিন পার করছি

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগে রয়েছে বানভাসিরা। আস্তে আস্তে ঘরে ফেরা শুরু করেছে দুর্গত এলাকার মানুষজন। জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ি ও রাজারহাটসহ কয়েকটি এলাকার উঁচু অ লের লোকজন ঘরে ফিরলেও ক্ষেতে গিয়ে মাথায় হাত উঠেছে তাদের।

যেখানে ধানক্ষেতগুলো এখন সবুজের মাঠ হয়ে ওঠার কথা সেখানে বন্যা বিধ্বস্ত ক্ষেতে পড়ে আছে দু’ একটি পচা চারাগাছ। এ অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। সহায় সম্বল হারিয়ে দিশাহারা হয়ে দিন কাটছে তাদের।

মঙ্গলবার নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদের কৃষক শাহালম জানান, একবার সার, বীজ ও কৃষান খরচ করে ধানগাছ লাগিয়েছি। বন্যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলোর কি কোন সাহায্য দিবে সরকার? শুনেছি; প্রধানমন্ত্রী নাকি আশ্বাস দিয়ে গেছে। সেই আশ্বাসের আশা নিয়ে দিন পার করছি।

ফুলবাড়ী উপজেলার রাবাইতারী এলাকার কৃষক মোজাম্মেল জানান, “এত টাহা নিয়া ধান গারিলোং; সেও ধান বানে খ্যায়য়া গেইলো। এলা হামরা কি করি? এরকম আরো অনেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন তাদের দুঃখের কথা। কথা বলে জানা যায়, অনেকে ঋণ বা ধার করে ধান লাগিয়েছে। ধান কেটে তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। এখন তারা আবারো ঋণে পড়ায় মাথায় হাত উঠেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৪২ হাজার ৩৫১ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ায় প্রায় ৩ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, গত রোববার বন্যার্তদের খোজ-খবর ও ত্রাণ বিতরণ করতে কূড়িগ্রামে আসেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় বন্যায় ফসল হারানো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনকে নগদ টাকা ও ঘরবাড়ি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন “বন্যায় যাদের ঘর বাড়ি বিনষ্ট হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি নতুন করে দেওয়া হবে, ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন, ধানের চারা, সার, বীজ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি