নায়করাজ রাজ্জাকের প্রয়াণে শোকাহত কলকাতা

নায়করাজ রাজ্জাকের চলে যাওয়ার শোক ছেয়েছে ভারতের কলকাতার সংস্কৃতি অঙ্গন ও টালিউডে। তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যুতে অনেকেই বলেন, এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত।

চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদার বলেন, ‘ভাবতেই পারছি না, রাজ্জাক নেই। বড় ভালো মানুষ ছিল ও। কলকাতায় এলে দেখা হতো আমার সঙ্গে। উচ্চমাপের এক শিল্পী। অগাধ জ্ঞান ছিল চলচ্চিত্র সম্পর্কে। ওর বিদায়ে আমাদের দুই দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন বিরাট ধাক্কা খেল। অভিনেতাদের কোনো দেশ নেই, সীমান্ত নেই। তাই তো ও বারবার ছুটে এসেছে কলকাতায়। কলকাতা ছিল ওর বড় প্রিয়। এ ক্ষতি অপূরণীয়।’

অভিনেতা চিরঞ্জিত বললেন, ‘আর যাওয়া হলো না ওর ঢাকার বাড়িতে। বারবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এখনো ওর দেওয়া ভিজিটিং কার্ডটি সযত্নে রেখেছি। ভাবতাম, ঢাকায় গেলে তার বাড়িতে যাব। বড় মনের মানুষ ছিল রাজ্জাক। ছিল বড় মাপের একজন শিল্পীও। তাই তো ভালোবেসে মানুষ নাম দিয়েছে নায়করাজ।’

প্রবীণ অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী বলেছেন, ‘সরল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর ছবিতে আমি অভিনয় করেছি।’ আরেক প্রবীণ অভিনেতা নিমু ভৌমিক বলেছেন, ‘এই উপমহাদেশ তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এক মহান শিল্পীকে হারাল। এ ক্ষতি আমাদের দুই দেশেরই।’

১৯৯৮ সালে পশ্চিম বাংলায় দারুণ ভাবে ব্যবসা সফল হয় রাজ্জাকের রিমেক ছবি বাবা কেন চাকর। সেই ছবির সহকর্মী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত শোক জানিয়েছেন।

প্রসেনজিৎ তাঁকে বাবার মতো ভালোবাসতেন। এই অভিনেতা ফেসবুক ও টুইটারে লিখেছেন, ‘তিনি আমার বাবার মতো ছিলেন, থাকবেন। তাঁর সঙ্গে অসংখ্য ছবি করেছি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকেই নয়, আমার হৃদয়কেও ব্যথিত করেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি। শান্তিতে থাকবেন রাজ্জাক সাহেব।’

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজ্জাক স্যারের মৃত্যু আমার কাছে বেদনাদায়ক! খুব কষ্টে কিছু লিখতে পারছি না। আমরা বাবা কেন চাকর এবং অন্য আরও ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি।’

কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজের ব্যানারে রাজ্জাক অভিনয় করেছিলেন অন্নদাতা ছবিতে। তাদের ফেসবুক পাতায় লেখা হয়, ‘তিনি সব সময় আমাদের স্মৃতিতে থাকবেন। আমরা প্রসেনজিৎ ও তাঁর সঙ্গে অন্নদাতা করেছিলাম। শান্তিতে থাকবেন রাজ্জাক।’