জামায়াত জোটের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি, জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় নৃশংসতায় নিহত পরিবার ও আহতদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐ ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের ২৪ জন সদস্যের মাঝে প্রধানমন্ত্রী এই আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেদিনের বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, ২০১৩, ১৪ ১৫ এই তিনটি বছর বিএনপির আন্দোলনের নামে সাধারণ জনগণ অত্যাচার নির্যাতনের স্বীকার হয়। যাদের অনেকেই কষ্ট সহ্য করে মারাই গিয়েছে । আবার অনেকে চিরদিনের মত পঙ্গুত্ববরণ করে নিতে বাধ্য হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এর পক্ষ থেকে দেয়া অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। প্রেস সচিব জানান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ৮৫ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ব্যাংকারদের দেশের সব রকম দুর্যোগের মুহূর্তে সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করে এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানান। জনগণের কল্যাণেই এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বন্যার পানি কমে যাবার পর থেকেই নতুন ফসল উৎপাদনে পদক্ষেপ নেবে, কেননা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বন্যা পরবর্তিতে কোন ধরনের রোগ যেন ব্যাপক আকার ধারণ করতে না পারে সেজন্যও তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বানভাসী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বন্যা দুর্গত এলাকার জনগণের মধ্যে পাঠ্য বই পুনরায় বিতরণ করবে এবং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই সড়ক মহাসড়কগুলোর সংস্থার কাজ শুরু হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জনগণের পাশে এসে দাঁড়াবার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং সকল শ্রেণি পেশার মানুষ-কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক সকলে সরকারের এই প্রচেষ্টায় সামিল রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং চেয়ারমান অব বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস নজরুল ইসলাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।