সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়া

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যে বক্তব্য দিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্যকে সন্ত্রাসী গ্রুপ ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খুব শিগগিরি বিজয় ঘোষণার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

দখলদার ইসরাইলসহ অন্যান্য দেশের প্রচারমাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্যকে কেন অত্যাসন্ন বিজয় ঘোষণার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে সেটাই এখন প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তরে তিনটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করা যায়। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্যের বিষয়বস্তু। কেননা তার বক্তব্যে সিরিয়ায় বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রভাব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বিশেষ করে আমেরিকা ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে দুশ্চিন্তার কোনো ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি। বরং সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কথাবার্তায় গভীর আত্মবিশ্বাসের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। তিনি খুব শিগগিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানেরও আভাস দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট আসাদ সিরিয়ায় পাশ্চাত্যের পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “ওই পরাজয়ের অর্থ এ নয় যে, আমরা পুরোপুরি বিজয়ী হয়েছি। তারা পরাজিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু যুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।” সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে ইসরাইলকে আগ্রাসী ও দখলদার শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য রাশিয়া, চীন, ইরান ও হিজবুল্লাহর ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। পররাষ্ট্র ক্ষেত্রেও সিরিয়া প্রাচ্যমুখী হবে বলে প্রেসিডেন্ট আসাদ জানিয়ে দেন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, তিনি এখন বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোর আলোচনায় উঠে এসেছেন। কারণ গত কয়েক বছর ধরে মিডিয়াগুলো প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্য প্রচার করা থেকে বিরত ছিল। কিন্তু গত রবিবার তার দেয়া বক্তব্য কোনো মিডিয়াতো সেন্সর করেনি বরং তা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে এমনকি ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলোতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। কাতারের আল জাজিরা টিভি চ্যানেল যা কিনা গত সাত বছর ধরে সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল সেটিও প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্যকে গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে এবং আসাদকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, তার বক্তব্যে সেদেশের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উঠে এসেছে। সব কিছু এখন সরকারি বাহিনীর অনুকূলে রয়েছে এবং বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এ অবস্থায় কোনো দেশ এখন আর প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার কথা বলছে না বরং তারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল অবস্থা কাটিয়ে ওঠোর জন্য আসাদকে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার কথা বলছে।

প্রেসিডেন্ট আসাদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়া থেকে বলা যায় সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটার পর সিরিয়া এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।