বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারিনি!

ফারজানা আক্তার মিথিলার প্রথম জন্মদিনর আগেই বাবাকে খারান। ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ছিল মাদারীপুরের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সী ওরফে লিটুর একমাত্র মেয়েপ্রথম জন্মদিনর। তাই মেয়ের জন্য ঢাকা থেকে নতুন জামা কিনে নিয়ে আসার কথা ছিল বাবার। কিন্তু তার আর সেই জামা আনা হয়নি। এর ১১ দিন আগে অর্থাৎ ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান লিটন মুন্সী।

মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির মুখে বাবার কথা শুনেছে মিথিলা। জন্মদাতার স্মৃতি বলতে কাগজের একটি ছবিই তার একমাত্র সম্বল। সে এখন মাদারীপুরের স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। নিজের নাম ও স্কুলের কথা বললেও বাবার কথা জানতে চাইলেই চুপসে যায় মিথিলা।

সে বাবাকে দেখেনি। বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারিনি। মায়ের কাছে শুনেছে, তার প্রথম জন্মদিনে বাবা ঢাকা থেকে জামা কিনে আনতে চেয়েছিলেন। সহপাঠীদেরকে তাদের বাবারা স্কুলে নিয়ে আসে দেখলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিথিলা। সে তার বাবার হত্যার বিচার চায়।

মাদারীপুর শহরের পৌরসভার বটতলা এলাকার বাসিন্দা মিথিলার নানা-নানি কাশেম বেপারী ও রেহেনা বেগম বলেন। তাদের কাছেই এখন থাকে সে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা দেওয়া হয় এই পরিবারকে। তবে মিথিলার বেড়ে ওঠার সঙ্গে স্বজনদের শঙ্কা বাড়ছে। তাদের অনুরোধ, সরকার যেন মিথিলার ভবিষ্যতের দিকেও লক্ষ্য রাখে।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের লিটন মুন্সীই শুধু নন, নিহত হন আরও দু’জন। তারা হলেন- কালকিনির রামারপোল গ্রামের বাসিন্দা ঢাকার রিকশাচালক ও শ্রমিক লীগ নেতা নাসিরউদ্দিন এবং ক্রোকিরচর গ্রামের মোস্তাক আহাম্মেদ। তাদের স্বজনরা হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।