সাহানার ভূয়সী প্রশংসায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’

সম্প্রতি ভারতের বড় কয়েকটি শহরে সামন্তক সিং এবং তাঁর বন্ধুদের নিয়ে গান শোনালেন সাহানা বাজপেয়ী। রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি লোকগীতি করেছেন তাঁরা। নতুন ধাঁচে পুরোনো গান। আর তাঁদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’।

কবি গুরুর গানকে অ্যাকুস্টিক ধাঁচে পরিবেশনের পাশাপাশি তাঁরা ব্যবহার করেছেন আধুনিক যন্ত্রসজ্জা। সঙ্গে লোকসংগীত ও হারানো দিনের গান। সামন্তকের নেতৃত্বে চার সদস্যের এই দল ভারত ও ভারতের বাইরে ছড়িয়ে দিচ্ছে রবীন্দ্রসংগীত সহ আরও নানা ঘরানার গান। ‘নতুন করে পাব বলে’ অ্যালবামের সুবাদে এ দেশের রবীন্দ্র সংগীত পিপাসুদের কাছে সাহানা বাজপেয়ী বেশ পরিচিত নাম। তাঁর প্রশংসা করে ভারতের দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’ নিজেদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘পেশায় শিক্ষিকা হলেও গানই সাহানার ধ্যান জ্ঞান। পারফর্ম করে থাকেন তিন-চারটি ব্যান্ডের সঙ্গে, যার একটি লন্ডনে।’

গানের জগতে আসা প্রসঙ্গে সাহানা জানান, ‘শান্তি নিকেতনে প্রায় প্রতিদিনই গানের ক্লাস হতো। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের গান আত্মস্থ করার ব্যাপারটা ছিল সহজাত। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। গানের প্রতি টান সেই শৈশব থেকেই। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক গেয়েছি। তবে পেশাদার সংগীত জগতে পা রেখেছি দুর্ঘটনাক্রমে। শান্তি নিকেতনে আমরা কিছু রেকর্ড করেছিলাম, সিডি বেরোনোর পর সবাই খুব পছন্দ করেছিল।’ সাহানা বাজপেয়ীর রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনা একটু অন্য রকম। ঠিক রাবীন্দ্রিক ছকে বাঁধা নয়। প্রথাগত রবীন্দ্র সংগীত থেকে একটু বেরিয়ে আসায় তরুণদেরই বেশি টানছে তাঁর গান। ‘দ্য হিন্দু’র ভাষ্যমতে, ‘ভিন্ন রকম পরিবেশনা হওয়ায় তাঁর শোতে তরুণদের একটা বিশাল অংশের উপস্থিতি মোটেও অস্বাভাবিক নয়।’

সাহানার শৈশব কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের শান্তি নিকেতনে। বাবা বিমল বাজপেয়ীর হাত ধরে গানের দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন মাত্র তিন বছর বয়সে। শান্তি নিকেতনে পড়াশোনার পাশাপাশি বিজয় সিনহা, চিত্রা রায়, শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায় ও মিতা হকের অধীনে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও রবীন্দ্র সংগীতে দীক্ষা নিয়েছেন তিনি।

সাহানা জীবনের গাঁটছড়া বেঁধেছেন লন্ডনে। সামন্তকের ব্যান্ড দলের সঙ্গে সাহানার ভিন্ন রকম পরিবেশনার দুর্দান্ত সংমিশ্রণের নেপথ্যে রয়েছে তাঁদের দীর্ঘ দিনের পরিচয়। গানের জগতে দুজনের পরিচয় বছর পাঁচেক আগে। তবে পছন্দের গানের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে দুজনের রুচিতে। ‘হিন্দু’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামন্তক নিজের লেখা গান গাইতে ভালোবাসেন। পাশাপাশি পছন্দ করেন ফোক ও হারানো দিনের গান; তবে সবই অ্যাকুস্টিক মিউজিকে। অন্যদিকে, ফোক গান ও ‘শচীন কর্তা’র গান সাহানার ভীষণ পছন্দের হলেও মূল ধ্যানজ্ঞানটা রবীন্দ্র সংগীত। সাহানার কাছে গান হলো এমন কিছু, যার রেশ থেকে যায় গান শেষেও।

সামন্তক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পাশাপাশি লেখাপড়া করেছেন লন্ডনেও। পশ্চিমা ঘরানার রিচার্ড মার্কস, ডিপ পার্পল, দ্য ডোরস ও জন ডেনভারের প্রভাব রয়েছে তাঁর সংগীত দর্শনে। গানে হাতেখড়ি সেই শৈশবেই, মঞ্চে উঠেছিলেন পাঁচ বছর বয়সে। গিটার শেখা আর কণ্ঠ দেওয়াও তখন থেকেই। এ ছাড়া গান লেখার পাশাপাশি করে থাকেন সুরারোপও। সামন্তকের গানের দর্শনও বেশ বিস্তৃত; শুধুই রোমান্টিসিজম নয়, যুদ্ধবিরোধী বার্তাও রয়েছে তাঁর লেখা গানে। গান নিয়ে নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি দুজনেই কাজ করছেন ওয়েব সিরিজে। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে একটি ওয়েব সিরিজে সুরারোপ করছেন সামন্তক। সাহানাও শিগগিরই কাজ শুরু করবেন ওয়েব সিরিজে, পাশাপাশি চলছে অ্যালবামের আয়োজন, যেখানে সুরারোপ করেছেন সামন্তক।

নতুন প্রজন্মকে দেশজ গান শুনতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলা গানের বিস্তার ঘটিয়েছে তাঁদের এই জুটি।