আমরা যা যা করা দরকার, তা করবঃ প্রধানমন্ত্রী

বন্যার্ত প্রতিটি মানুষের কাছেই ত্রাণ পৌঁছে যাবে আশ্বাস দিয়ে সরকারের প্রতি ভরসা রাখার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার বন্যা দুর্গত দিনাজপুর সদর ও বিরল উপজেলা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পানি নেমে যাওয়ার পর রাস্তাঘাট মেরামত, ঘরবাড়ি নির্মাণ, কৃষকদের নতুন করে ফসল ফলাতে সহায়তা দেয়ার ঘোষণাও ‍দিয়েছেন তিনি। পরে জেলা জিলা স্কুল আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন। এর আগে তিনি সেখানে ভাষণ দেন।

আমরা যা যা করা দরকার, তা করবঃ প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দল নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বন্যার্তরাও ত্রাণের আশায় ভিড় করে। হাজার হাজার মানুষ আসে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। জনসভায় আসা মানুষদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা দেখার সাথে সাথে আমরা বিদেশ থেকে খাদ্য কেনা শুরু করেছি, যথেষ্ট মজুদ আমাদের আছে। আমার দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, বন্যা কবলিত যেসমস্ত এলাকায় খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে বা কোনো ক্ষতি হয়েছে, প্রতিটি মানুষ যাতে ক্ষুধার অন্ন পায়, ইনশাল্লাহ সে ব্যবস্থা আমরা করব এবং করে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে মঙ্গা দূর করেছে আওয়ামী লীগ সরকারই। গত আট বছরে এই মঙ্গার কথা শুনেনি কেউ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে রিলিফের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেকে যেন খাদ্যশস্য পান, রিলিফ পান সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও ব্যাপকভাবে নেমেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়ে আমরা রিলিফ দেয়ার জন্য প্রত্যেকটা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করার জন্য এবং সাহায্য দেয়ার জন্য আমরা বলে দিয়েছি।’ ‘নেতৃবৃন্দ ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মানুষের মাঝে যেন ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে ভাগ হয়, তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। মানুষের কী কী অসুবিধা আছে, তা দেখার ব্যবস্থা করছেন।’

দিনাজপুর সার্কিট হাউজে দুপুরের নামাজ ও খাওয়া শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।