যমুনার পানি কমলেও বাড়ছে করতোয়া-বাঙ্গালির

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি ৫৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় কমলেও বাড়ছে বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি।

শনিবার বাঙালি নদীর পানি বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌছেনি। এছাড়া যমুনার পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির অভাব। নোংড়া পানিই খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে বানভাসিরা। ফলে জ্বর ও বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে।

বগুড়ার তিনটি উপজেলার পর নতুন করে আরো দুটি উপজেলায় পানি প্রবেশ করেছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে শিবগঞ্জ উপজেলায় এবং ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নাগর নদীর পানি উপচে নন্দীগ্রাম উপজেলার ২০ টি গ্রামের মাঠ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের সারাদীঘর, নিমাইদিঘী, বাঘাদহ, পারঘাটা, গুলিয়া, কৃষ্ণপুর, ঘুনপাড়া, জামালপুর, গোপালপুর, বনগ্রাম, পারশুন ও ভাটরা ইউনিয়নের নাগরকান্দি, রুস্তমপুর, দমদমা, ডেওবাড়ি, বৃষ্ণপুর, শশিনগর, চাতরাগাড়ি, কালিয়াগাড়ি, মুলকুড়ি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে রয়েছে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমির আমন ধান। এই উপজেলায় শুক্রবার থেকে কিছুটা পানি কমতে শুরু করেছে।

এছাড়া বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রোয়েন বাঁধে বিভিন্ন চরাঞ্চলের বানভাসি প্রায় দেড়শ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ওই সব পরিবারের কেউই এখন পর্যন্ত ত্রাণ পাননি বলে বানভাসিরা অভিযোগ করেছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। শনিবার নদীর পানি কমে ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে পানি ১২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাছুদ আহমেদ জানান, পানি দিন দিন বাড়ছেই। এতে করে ফসলের আরও ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে।