যত ভুল বোঝাবুঝি সব ফেলুদাকে ঘিরেই?

যখন যেখানেই যায় ফেলুদা সেখানেই কোনো না কোনো ঝামেলা তার পিছু নেয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশের টেলিভিশনের জন্য যখন সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা নির্মিত হচ্ছে, তখনো তৈরি হলো নতুন ঝামেলা। সর্বশেষ সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায় বাংলাদেশি প্রযোজকের বিরুদ্ধে চুক্তি বরখেলাপের অভিযোগ এনেছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সন্দীপ রায় বলেছিলেন, টিভি সিরিজের স্বত্ব বিক্রির সময় শর্ত ছিল, এটি কোনো অবস্থাতেই ভারত থেকে কেউ দেখতে পারবে না। কিন্তু কিছুদিন আগে ভিডিও শেয়ারিংয়ের সাইট আড্ডা টাইমসে বাংলাদেশের ফেলুদার একটি টিজার প্রকাশিত হয়েছে। চ্যানেলটিতে ওয়েব সিরিজ আকারে ফেলুদা ধারাবাহিক ভাবে প্রচারিত হবে। কলকাতা ভিত্তিক অনলাইন চ্যানেলটিতে এই টিজার দেখে অবাক হন সন্দীপ রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফেলুদায় ফেলুদাকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেটা নিয়ে তিনি কিছু বলছেন না। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী কলকাতার চ্যানেলে ফেলুদা কীভাবে প্রচারিত হতে পারে?

তবে অবশেষে ঝামেলা মিটল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কলকাতা থেকে মুঠোফোনে বাংলাদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডি প্রোডাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘বাবু ভাইয়ের (সন্দীপ রায়) সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে।’ সন্দীপ রায়ও বলেন, ‘ব্যাপারটা নিয়ে আসলে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। ফেলুদার ৩৫টি গল্পের মধ্যে বাবা দুটি (চলচ্চিত্র) এবং আমি ২১টি (টিভি প্রোডাকশন ও ছবি) বানিয়েছি। বাংলাদেশে সেগুলোই আগে বানানো হবে।’ সন্দীপ জানান, ২৩টি গল্প নিয়ে টিভি সিরিজ ও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডওয়াইড সিরিজ বানানোর ব্যাপারে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

পরে দুজনের স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সন্দীপ রায় নির্মিত গল্পগুলো নিয়ে আগে টিভি ও ওয়েব সিরিজ নির্মিত হবে। পরে অন্যান্য গল্পের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে কাজ করবে। প্রথম সিজনে নির্মিত হবে শেয়াল দেবতা রহস্য, ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা, গোলকধাম রহস্য ও গ্যাংটকে গন্ডগোল গল্প গুলো।

এর আগে ২ আগস্ট বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত। তাঁর অভিযোগ, পর্যটন ভিসায় এসে ভারতীয় শিল্পীরা বাংলাদেশে কাজ করছেন। পরমব্রতও তা-ই। তবে এটিকেও ভুল–বোঝাবুঝি বলছেন শাহরিয়ার শাকিল। শিগগিরই নাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের ফেলুদা টিভি ও ওয়েব সিরিজে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। আর ফেলুদার সহকারী তোপসে হচ্ছেন কলকাতার ঋদ্ধি সেন।