কুড়িগ্রামে খাদ্য সংকটে বন্যার্তরা

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও বেড়েছে বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ। জেলার চার লক্ষাধিক বানভাসী মানুষের বেশির ভাগই উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারী স্থাপনাসহ উঁচু এলাকার বাড়ি-ঘরে আশ্রয় নিলেও, অনেক বানভাসী পরিবার অতি কষ্টে ঘরের উঁচু মাচা, নৌকা ও কলা গাছের ভেলায় বসবাস করছেন।

পানি নামা শুরু করলেও বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে চলছে খাবারের জন্য হাহাকার। নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটছে বানভাসীরা। অনেক পরিবারের ঘরের খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় বা রান্না করতে না পারায় খেয়ে না খেয়েই দিন পার করছে।জেলা প্রশাসন থেকে চাহিদা মোতাবেক ত্রাণ বরাদ্দের কথা বলা হলেও অনেক বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণের চাল না পৌঁছানোর অভিযোগ বানভাসীদের। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ধরলার অববাহিকার চর সারডোব গ্রামের মজিবর রহমান জানান, বন্যা শুরু পর থেকে পাশের চরের প্রায় ২ হাজার পরিবার স্থানীয় বাঁধে আশ্রয় নিলেও এক প্যাকেট রান্না করা খিচুরি ছাড়া আর কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। এমন অভিযোগ ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অনেক চরাঞ্চলের। দুর্গম চরের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি এক প্যাকেট খিচুরিও।

বালাডোবার চরে সিএলপির ভিটায় অবস্থান করা আমির হোসেন জানান, পরিবারের চার সদস্য নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমার ৩টি ঘরের মধ্যে ২টি ঘর সম্পূর্ণরূপে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন ত্রাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলায় নদ-নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবে জেলার ৯ উপজেলার ৮২০টি গ্রামের ৪ লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দী জীবন-যাপন করছে।

বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে গত ৭ দিনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভেসে গেছে জেলার ৮ হাজার পুকুরের প্রায় ১২ কোটি টাকার মাছ। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নের ২২ হাজার মানুষের সকলে পানিবন্দী এবং দিনমজুর শ্রেণির। বন্যা শুরুর পর থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মাত্র ১১ মেট্রিক টন চাল ও ৭শ প্যাকেট শুকনো খাবার পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ইউনিয়নের সকল মানুষকে ত্রাণ দিতে গেলে আরও অন্তত ৩০ মেট্রিক টন চাল প্রয়োজন।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যেসব এলাকার মানুষ এখনও ত্রাণ পায়নি পর্যায়ক্রমে সেসব এলাকাতেও ত্রাণ দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৮৫১ মেট্রিক টন চাল এবং দুই হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি