শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ ভারতের দূরপাল্লার কামান পরীক্ষা

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হাউইটজার কামান ধানুশের পরীক্ষা একাধিকবার শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধে এ কামান ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনা নেই।

ভারতীয় সেনাসূত্র থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে অন্তত তিন দফা এ কামান দিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে গোলা ছোঁড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত তিনমাসে তিন দফা ছয়টি ১৫৫এমএম/৪৫ ক্যালিবার ধানুশ কামানের পরীক্ষা চালান হয়েছে। প্রতিবারই গোলা ছোঁড়ার সময় পরীক্ষামূলক কামানের একটির নল ফেটে গেছে। এ কামানের সর্বশেষ পরীক্ষা করা হয় গত সপ্তাহে। সেখানেও একই ঘটনাই ঘটেছে।

গোলার ত্রুটিসহ নানা কারণেই কামানের নল ফাটতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত হওয়ার জন্য এ সব কারণের প্রতিটি ভালভাবে মূল্যায়ন করে দেখতে হবে বলে জানান ভারতের অবসর প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রাহুল ভোসলে।

এর আগে ধানুশে জাল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কেলেঙ্কারিও ধরা পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণকারী সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। কামানে ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সব যন্ত্রাংশকে বেয়ারিং বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর গায়ে ‘মেড ইন জার্মানি’ লেখা থাকলেও এগুলো চীনের তৈরি সস্তা যন্ত্রাংশ বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়।

আশি এবং নব্বইয়ের দশকে কেনা বোফর্স কামান বর্তমানে ব্যবহার করছে ভারতের সেনাবাহিনী। এ কামান কেনা নিয়ে কেলেঙ্কারি হয়েছিল। এখানে উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের মাঝামাঝি সুইডেনের এবি বোফর্স থেকে কামান কেনা নিয়ে কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিটি নস্যাৎ করে দেয়।

ভারতে এটি বোফর্স কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত এবং একে কেন্দ্র করে ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটেছিল রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দলের।