চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের হজে না যাওয়ার আবেদন

সার্বিক প্রস্তুতি থাকার পরও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং পরবর্তীতে শারীরিক নানা জটিলতার কারণে হজে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। তারা তাদের অপারগতার কথা উল্লেখ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছেন। মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

অপারগতা প্রকাশকারীদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বহু হজযাত্রীর এমন আবেদন জমা পড়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, শুধু চিকুনগুনিয়া নয়, মৃত্যু বা অন্যান্য রোগব্যাধির কারণে অনেকেই অপারগতা প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ বন্যায় আক্রান্ত জেলার অনেকেই হজে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে আবেদন করেছেন।

মোট হজযাত্রীর মধ্যে অর্ধেক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাকি অর্ধেক সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পরিবহন করার কথা রয়েছে। গত ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয় এবারের হজ ফ্লাইট। তবে নানা জটিলতার কারণে বিমানের ২৪টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের চারটি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সৌদি পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তবে শেষ মুহূর্তে হজযাত্রী ও তাদের স্বজনদের মনে প্রশ্ন, আদৌ তারা হজে যেতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্ম সচিব আবদুল জলিল বলেন, গত দুই-তিন বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মোট নিবন্ধনকৃত হজযাত্রীদের শতকরা ৯৫ থেকে ৯৭ ভাগের কিছু বেশি হজে গেছেন। তবে এবার নানা শঙ্কা থাকলেও ইচ্ছে করে যারা যাবেন না, তারা ব্যতীত সবাই হজে যেতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে সরকারি ও বেসরকারি অনেক হজযাত্রী যেতে পারছেন না। এছাড়া বন্যায় আক্রান্ত জেলার অনেকে শেষ মুহূর্তে না যাওয়ার আবেদন করেছেন। মৃত্যু ও অন্যান্য রোগব্যাধির কারণও রয়েছে। এ সংখ্যা আনুমানিক কত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) ভিসা আবেদনের শেষ সময়। বৃহস্পতিবারের পর সঠিক সংখ্যা বলা যাবে।

উল্লেখ্য, এডিস মশার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস ছড়ায়। এ জ্বরের লক্ষণগুলো অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই। হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথার সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, বমিভাব, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, র্যাশ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিন থেকে চারদিনের মধ্যে সেরে গেলেও হাড়ের জোড়ের ব্যথা স্থায়ী হতে পারে ২০-২২ দিন পর্যন্ত। এ বছর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকুনগুনিয়ার ব্যাপক প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়।