ইসির মেরুদণ্ড সোজা করলেই হবে না,প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে হবে:নঈম নিজাম

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তুলনায় আইনগত দিক থেকে আমাদের কমিশন অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা বলেছি আপনারা শুধু মেরুদণ্ড সোজা করলেই হবে না, আপনাদের প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর অাগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংলাপে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এক মতয়  বিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। 

সভায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।                 সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যে ক্ষমতা আছে সেটির প্রয়োগ করার ওপরও জোর দেন তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সংলাপে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

ইসির একটি সূত্র জানায়, বুধবারের সংলাপে অংশ নিতে প্রিন্ট মিডিয়ার ৩৪ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের মধ্যে ২২ জন সংলাপে অংশ নেন।

আমন্ত্রিতদের মধ্য থেকে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রথম আলোর উপ সম্পাদক আনিসুল হক ও যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান প্রমুখ।

সংলাপ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম সাংবাদিকদের বলেন,সাংবিধানিকভাবে আপনাদের যে ক্ষমতা আছে সেটির প্রয়োগ করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু কমিশন নির্বাচন আয়োজক সংস্থা সেহেতু সবার অংশগ্রহণের জন্য যে প্রক্রিয়া দরকার তাই করতে হবে।

ভোরেরর কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সুষ্ঠু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলগুলোর আস্থা অর্জন, প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন, না ভোটের বিধান এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করে ইসি। প্রথম দিন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, ‘না’ ভোট প্রবর্তন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন।

আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে ইসি। ওই দিন সকালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের সংগে সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। আর বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) সংগে বৈঠক হবে। পরে ২৮ আগস্ট সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মুসলীম লীগ-বিএমএল আর বিকাল ৩ টায় খেলাফত মজলিশের সঙ্গে বসবে ইসি। ৩০ আগস্ট সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আর বিকাল ৩ টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার সঙ্গে বসবে ইসি।

যেসব সুপারিশ এসেছে:

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পরে সংলাপে পাওয়া সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।

১. সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রত্যাশা করেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

২. বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ করার পরামর্শ

৩. সেনা মোতায়েনের পক্ষে বলেছেন কেউ কেউ; অধিকাংশই বলেছেন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

৪. না ভোটের পক্ষে-বিপক্ষে মত; কেউ ভালো বলেছেন, কেউ কেউ বিপক্ষে বলেছেন।

৫. দেশ-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৬. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বাংলায় করার পরামর্শ

৭. জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুননির্ধারণ করার পরামর্শ

৮. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

৯. আচরণবিধি প্রয়োগে কঠোর হওয়ার পরামর্শ

১০. প্রবাসীদের ভোটার ও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা

১১. নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ

১২. ধর্মকে কোনোভাইবে যাবে ভোটের প্রচারে ব্যবহার করতে না পারে

১৩. অবৈধ অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার রোধ

১৪. প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ ও প্রচারের উদ্যোগী হতে হবে

১৫. নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও কাউকে যেন ভোকেন্দ্রে গিয়ে ফিরে আসতে না হয়

১৬. ইসিকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে

১৭. অনলাইনে মনোনয়ন নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে

১৮. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে

১৯. ভোটার ও প্রার্থীর আস্থা তৈরি করতে হবে

২০. নারী ভোটার উপস্থিতি ও নারী নেতৃত্বের অগ্রগতি ধরে রাখতে ভূমিকা নিতে হবে।