মুন্সীগঞ্জে প্রান নাশের হুমকি

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার এক অসহায় মেঘনা শাখা নদীর একটি ইয়াজ উদ্দিন বেপারি মাঝির পরিবারকে তার ক্রয়কৃত নিজ বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছেন একই এলাকার প্রভাবশালী মো: সুলতান শেখসহ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনি। নদী খেয়া পাড়াপার করে ক্রয় করা সম্পত্তি।

এমনকি মুন্সীগঞ্জ জেলা জজ আদালতে এই অসহায় পরিবারটিকে মামলা দিয়ে আর্থিক ক্ষতি সাধন করতে উন্মাদ হয়ে উঠেছে কতিপয় ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ।

এ কারণে জান-মাল রক্ষা করতে এখন গ্রামবাসীসহ পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছে ওই অসহায় পরিবারটি।
নিজে নদীতে নৌকা চালিয়ে অর্থ জমিয়ে জমি কিনে এখন মরন কিনেছেন বলে দাবি করেন বর্তমানে ১০ জনের একমাত্র উপার্জনক্ষম ইয়াজ উদ্দিন বেপারি মাঝির ছেলে মো: কামাল বেপারী মাঝি।

বর্তমানে ঐ সন্ত্রাসী বাহিনি দরিদ্র অসহায় মাঝির পরিবারটিকে প্রান নাশের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মো: কামাল বেপারী মাঝি। যার উপরে সংসারের ১০ জন সদস্যের রুটি-রুজির দায়ভার। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান কামাল বেপারী।

তবে এ প্রসঙ্গে সদর থানার এস.আই মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় এক মাস আগে মো: কামাল বেপারী থানায় এসে প্রতিপক্ষ সুলতান শেখসহ আরো কয়েকজনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে তেমন কোন সন্ত্রাসী কর্মকা- বা কামাল বেপারির বাড়ি উচ্ছেদ বা তার পরিবারকে হামলা করা হবে এমন কোন পরিস্থিতি দেখিনি।

তাছাড়া যে জমি নিয়ে সুলতান শেখের সাথে ইয়াজ উদ্দিন মাঝির বিরোধ চলে আসছে সে জমি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলা চলছে। আমি এ ঘটনাটির মিমাংসার লক্ষে ওসি সাহেবের অনুমতি নিয়ে জন্য দুই পক্ষকেই থানায় ডেকেছিলাম কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা হয়নি। এ প্রসঙ্গে কামাল বেপারি জানান আমাকে গ্রাম থেকে সুলতান শেখসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনি থানায় আসতে বাধাঁ প্রদান করায় প্রানের ভয়ে আমি থানায় আসতে পারিনি।

এদিকে, মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ-একদিকে অসহায় মাঝির পরিবারটির রুটি-রুজির জন্য প্রতিনিয়ত নৌকা চালিয়ে জিবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়াজ উদ্দিন বেপারি মাঝির ক্রয় করা একই এলাকার মো: খোকন শেখের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেও এলাকার স্থানীয় সুলতান শেখের সন্ত্রাসী বাহিনির প্রতিদিন প্রান হারানোর ভয়ে মানবেতর দিন যাপন করছেন পরিবারটি।

কান্না ভেজা চোখে কামাল বেপারি বলেন আগে বাবা নদীতে খেয়া পাড়াপাড় করতেন। এখন বয়স বেশি হওয়ার কারণে আমার বাবা আর নৌকা চালাতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ১০ জন পরিবারের খাবার যোগান দেবার জন্য নৌকার বৈঠা এখন আমাকেই ধরতে হয়েছে। রোদে পুরে-বৃষ্টিতে ভিজে সারাদিন নৌকা চালিয়ে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে মা-বাবা ভাই, বোনের পেটের আহারের জোগান দেন কামাল মাঝি।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আবদ্দুল আল মাসুদ