ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা পদ্মা

ফরিদপুর চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের মনোয়ারা শনিবার তার মেয়ের বাড়ী বেড়াতে যান। রাতে বাড়ী ফেরেননি বলে তাঁর থাকার ঘরটি খালি ছিল। গভীর রাতে পানির শব্দে তার মা ছোট খাতুনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। উঠে দেখেন মনোয়ারার ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা পদ্মা। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘরের কিছু অংশ রক্ষা করেণ সত্তরোর্ধ মা। সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে ছোট খাতুন বলেন, “রাইতে পানির হুঁসানিতে ঘুম ছুইড্যা গ্যাছে ,উইডা দেহি মনোয়ারার ঘরের কোনা নাই” ।

জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত বড় বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের শেষ মাথায় প্রায় পাচঁশত মিটার জায়গা জুড়ে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দেয়। গত দু’দিনে জালাল খাঁ,ছোট রশিদ,উজ্জল খাঁ,মনোয়ারা,ছোট খাতুন,জান খা,রশিদ মোল্যা,ছকেল মোল্যা বাড়ী সরাতে হয়েছে। রবিবার দিনভর ভাঙ্গন কবলিত অন্যরা বাড়ী ঘর সড়াতে ব্যাস্ত ছিল। এ পর্যন্ত একুশটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ঝঁকির মধ্যে রয়েছে ২৭টি বাড়ী ।

এছাড়া ভাঙ্গনের আশঙ্কায় রয়েছে মোল্যা ডাঙ্গী সরকারি প্রাইমারী বিদ্যালয়  ও ফাজেলখার ডাঙ্গী সরকারি প্রাইমারী স্কুলসহ বড় বালিয়া ডাঙ্গী,ফাজেল খাঁর ডাঙ্গী,এম কে ডাঙ্গী গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার ।

বাড়ী হতে মাত্র বিশ গজ দূরে পদ্মার পাড়ি ঘর সরাতে ব্যস্ত জান খাঁ(৫০) বলেন, “মাথা গোজার এক মাত্র স্থানটুকু গাঙ্গে নিয়া যাইবো কোথায় জাইয়্যা দারামু জানিনা। রাস্তায় নিয়া ঘর কয়খান রাখতেছি। অনেকের কাছে থাকার জন্য সনকড়া(বছরচুক্তি) একটু জায়গা চাইছিলাম কেউ দেয় নাই”।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো: সগীর হোসেন রবিবার বিকেলে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান ভাঙ্গনের ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এছাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস সালাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানোষ বোস, হিসাব রক্ষণ অফিসার মো: কামরুল আহসান ও স্থানীয় এম পি প্রতিনিধি মো: আনোয়ার আলী মোল্যা।

 

ফরিদপুর প্রতিনিধি,হারুন-অর-রশীদ