কে এই জঙ্গি, কি-ই বা ছিল তার উদ্দেশ্য?

শেষ হয়েছে ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’। অভিযান শেষে এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয় কে ছিল এই নিহত জঙ্গি, কি ছিল তার উদ্দেশ্য আর কি বা ঘটেছিল সে সময়।

রাজধানীর পান্থপথে ‘জঙ্গি আস্তানা’ তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের পশ্চিম পাশে একটি ভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ। হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের ওই ভবনের চারতলায় একজন জঙ্গি অবস্থান নিয়েছেন বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে ওই রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে পুরো এলাকায় ঘিরে রাখেন পুলিশ ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের সদস্যরা। সারা রাত ঘিরে রাখার পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে থেকে ৯টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কয়েকবার গোলাগুলির আওয়াজ আসে। এরপর হামলা পাল্টা হামলার এক পর্যায়ে জঙ্গি আত্মঘাতী হন।

কে এই জঙ্গি ঃ

আত্মঘাতী হওয়া ঐ জঙ্গির নাম সাইফুল ইসলাম বলে অভিযান শেষে পান্থপথে সাংবাদিকদের জানান সিটিটিসি প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন- সাইফুলের বাবা একটি মসজিদের ইমাম। সে খুলনা বিএল কলেজে পড়তো এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করতো। তার বয়স মাত্র ২১ বছর। সন্দেহভাজন জঙ্গি সাইফুল ইসলাম খুলনার ডুমরিয়াবাসী। ৭ আগস্ট চাকরির কথা বলে বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকায় আসার পর সংগঠন থেকে শোক দিবসে আত্মঘাতী হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর বিভিন্নস্থানে থাকার পর সে এই হোটেলে অবস্থান নেয়। তবে সাইফুল নব্য জেএমবির সদস্য কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজের তালিকায় তিনি ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কি ছিল তার উদ্দেশ্য ঃ

শোক দিবসকে কেন্দ্র করে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গি সাইফুলের। সাইফুল নামের এই জঙ্গির লক্ষ্য ছিল ৩২ নম্বরের মিছিলে আত্মঘাতি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শতশত লোককে হতাহত করার। তাকে বারবার আত্মসমর্পণ করার কথা বলা হলেও সে আত্মসমর্পণ করেনি। বাঙালি জাতি যখন শোক পালনে ব্যস্ত ঠিক তখনি রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ১ কিলোমিটারেরও কম দূরুত্বে হোটেল ওলিও ড্রিমে তখন অবস্থান করছিল জঙ্গি সাইফুল। বার বার সাইফুলকে আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান জানানো হলেও সে সাড়া দেয়নি।

কি ঘটেছিল তখন ঃ

শোক দিবসের মিছিলে আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে বলে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। আর জঙ্গিরা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরকে টার্গেট করেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই ৩২ নম্বরের আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। যেহেতু ৩২ নম্বর, পান্থপথ, তিন রাস্তার মোড়—তিন দিক থেকেই মিছিল আসতে পারে, তাই জঙ্গিরা এর আশপাশে অবস্থান করবে পুলিশ খবর পায়। সেই খবরের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল আবাসিকের প্রত্যেকটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় হোটেলের অন্যান্য কক্ষে নক করার সঙ্গে সঙ্গে (গেস্টরা) খুলে দেয়। কিন্তু একটি কক্ষ নক করার পর খোলেনি। তখন ৩০১ নম্বর কক্ষে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। কক্ষে নক করার পর ভেতর থেকে জানায়, ‘সকালের আগে খুলবো না।’ করিডোরের পাশে জানালা দিয়ে ব্যাগ ও পা দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। তখন ব্লক রেইডে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন যাতে ভেতরে থাকা ব্যক্তি পালাতে না পারে। নিহত জঙ্গি সাইফুল ট্রাভেল ব্যাগে করে তিনটি বোমা নিয়ে আসে, যার একটি বিস্ফোরণের ফলে রুমের দরজা, জানালাসহ ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। আর একটি বোমা বিস্ফোরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অপর একটি বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

হামলায় বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারতো তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেষ্টায় তা প্রতিহত হয়।