দিনাজপুরে বন্যায় শহররক্ষা বাঁধসহ ৩ উপজেলার নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

দিনাজপুরে বন্যায় শহররক্ষা বাঁধসহ ৩ উপজেলার নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে একই পরিবারের ৩জনসহ অন্তত ১৪জন। সারা দেশের সাথে ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ  প্রবল বর্ষন ও ভারতের বাধ খুলে দেয়ায় দিনাজপুর সদরের মাহুদপাড়া ও সুন্দরা এলাকায় শহর রক্ষা বাধ ভেঙ্গে গেছে। এতে করে শহরের বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। একইসাথে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর ও বিরল উপজেলাতেও বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষ-জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে বিজিবি’র সদস্য মোতয়েন রয়েছে।

এদিকে দিনাজপুর বিভিন্ন উপজেলায় একই পরিবারের ৩জনসহ পানিতে ডুবে মারা গেছে অন্তত ১২জন। বিরল উপজেলার একই পরিবারের ৩জন, সদরে ৩জন, নবাবগঞ্জে ১জন, ও কাহারোলে পানিতে ডুবে ৫জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও দিনাজপুর সদরে সাপের কামড়ে ১জন ও বিদ্যুৎ স্পীষ্ট হয়ে আরো ১জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে বন্যার ফলে মানুষজনের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। একইসাথে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি ও পুকুর ডুবে পালিয়ে গেছে মাছ। বন্যার ফলে সকল সড়কে বাস চলাচল বন্ধ। দিনাজপুর চিরিরবন্দরে রেল লাইনে পানি ওঠায় ঢাকার সাথে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বন্যার ফলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানিবন্দী মানুষজনকে উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন উচু স্থানে আশ্রয়স্থল খোলা হয়েছে। সেসবের তদারকি করছেন জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি উদ্ধারকাজের জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। তিনি জানান, পানিবন্দী মানুষজনকে উদ্ধারের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষিত বাহিনী না থাকায় সেনাবাহিনীর সাহায্য নেয়া হয়েছে কাজ হয়েছে। গতাকাল রবিবার দুপুরেরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধাকাজে যোগদানসহ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চলছে।

এদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিভিন্ন স্থানে বন্যায় কবলিত মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে এবং তাদেরকে খাদ্য-পানীয় সরবরাহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। কোনক্রমেই যাতে মানুষজন না খেয়ে কিংবা বিপদের মধ্যে না থাকে সে বিষয়টিতে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে দেখেছেন । সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। বন্যা কবলিত মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ও বিজিবি।

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর প্রতিনিধি