বাংলাদেশে আবারো বন্যা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

গত চারদিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

বাংলাদেশের নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ পয়েন্টের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমুহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সকল নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম থেকে প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে চর, দ্বীপচর ও নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ। শনিবার কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানিও বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরের যাত্রাপুর, আঠারঘড়িয়া, বারোঘড়িয়া, হেমেরকুঠি, জগমোহনের চর, চর জয়কুমরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ধরলার ভাঙনে বাংটুর ঘাট, হেমেরকুঠি, সারোডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে।