টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা কবলিত বংলাদেশ

চারদিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম থেকে প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে চর, দ্বীপচর ও নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ।শনিবার কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানিও বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজানসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এই পাঁচ উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার অধিকাংশ এলাকায় পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।

শনিবার কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানিও বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সদরের যাত্রাপুর, আঠারঘড়িয়া, বারোঘড়িয়া, হেমেরকুঠি, জগমোহনের চর, চর জয়কুমরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ধরলার ভাঙনে বাংটুর ঘাট, হেমেরকুঠি, সারোডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে পড়েছে।

লালমনিরহাটে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজানসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এই পাঁচ উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার অধিকাংশ এলাকায় পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জে গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় সড়কের তিনটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় এই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া, জেলার সদর, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ ও ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে।

প্রবল বর্ষণের ও পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া উপজেলাধীন তিনটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়। আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। ফলে বন্দরের কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

জামালপুরে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আজ (শনিবার) বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জামালপুরে দ্বিতীয় দফা বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসীরা জানান, এবার বন্যায় সদ্য রোপিত রোপা আমণ ধান, কাঁচা তরিতরকারী পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওদিকে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এছাড়া, ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।