যে সব ফল ডায়াবেটিস রোগীরা নির্ভাবনায় খেতে পারবেন

বর্তমান সময়ে বেশ সাধারণ একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস। বয়স্কদের পাশাপাশি ছোট শিশুদেরও আজকাল ডায়াবেটিস রোগ হতে দেখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ খাওয়ার চেয়ে ডায়েট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কী খেতে হবে আর কী খেতে হবে না এই নিয়ে দ্বন্দ্বে থাকেন ডায়াবেটিস রোগীরা।

এই সময় মিষ্টি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া নিষেধ থাকায় ফল খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে। অথচ ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী। কিছু ফল আছে যা নির্ভাবনায় ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেনঃ

১।কামরাঙ্গাঃ দেশী টক ফল কামরাঙ্গা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। কামরাঙ্গায় আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

২।কমলা এবং লেবু জাতীয় ফলঃ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে লেবু জাতীয় ফল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। কিন্তু এই জাতীয় ফলের রস আবার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি করে থাকে। কমলার গ্লুকোজ ইনডেক্স (GI) ৪০ কিন্তু চিনি ছাড়া কমলার রসের গ্লুকোজ ইনডেক্স (GI) ৫০। তাই এই সকল ফলের রস পান করার চেয়ে ফল খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।

৩।আপেলঃ ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারে আপেল। উচ্চ ফাইবার যুক্ত এই ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা শরীর ডিটক্সিফাই করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পর্দাথ বের করে দেয়। এর জিআই ইনডেক্স ৩০ থেকে ৫০। দিনে একটি ছোট আপেল খাওয়া যেতে পারে।

৪।পেয়ারাঃ ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হল পেয়ারা। পেয়ারার মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা সুগার রোগীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। বিনা সংকোচে খেতে পারেন এই ফল।

৫।চেরিঃ চেরি রক্তে ৫০% পর্যন্ত ইনসুলিন তৈরি করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং লো কার্বোহাইড্রেইডের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি আর্দশ ফল। প্রতিদিন চেরি ফল খাদ্য তালিকায় রাখুন।

৬।স্ট্রবেরিঃ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ করে। যা হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে। এছাড়া স্ট্রবেরিতে কার্বোহাইড্রেইড পরিমাণ খুব কম। যা ব্লাড সুগার স্থিতিশীল রাখে। এর জিআই ৪০।

৭।কিউইঃ একটা সময় ছিল বিদেশি এই ফল বাংলাদেশে তেমন একটা পাওয়া যেত না। কিন্তু আজকাল আমাদের দেশের বাজারে এটি দেখা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশ স্বাস্থ্যকর একটি ফল। এই ফলটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে।